সাহিত্যিকা পল্লীতে গোলাগুলির ঘটনায় আবুল মনসুর লুদুকে আটক করেছে পুলিশ
কক্সবাজার শহরের সাহিত্যিকাপল্লী এলাকায় একরাম (৩২) নামে এক যুবককে গুলি করে আহত করার ঘটনায় আবুল মনসুর লুদু নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টার কিছু পর শহরের হাশেমিয়া মাদ্রাসা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আটক আবুল মনসুর লুদু হাশেমিয়া মাদ্রাসা এলাকার মৃত আব্দুস সবুর সওদাগরের ছেলে।
এর আগে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার কিছু পর শহরের সিটি কলেজসংলগ্ন সাহিত্যিকাপল্লী এলাকায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে একরাম নামে ৩২ বছর বয়সী এক যুবক গুলিবিদ্ধ হন। তিনি পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি।
নিহতের স্বজনদের দাবি, কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে সিটি কলেজ এলাকায় একরামকে মুবিন, জাহেদ, সাদ্দাম ও লুদুসহ চারজন ঘিরে ধরেন। একপর্যায়ে তার পেটে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করা হয়। গুলির পর একরাম গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে পড়ে গেলে স্থানীয় বাসিন্দারা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন।
পরে তাকে দ্রুত কক্সবাজার ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে তাৎক্ষণিকভাবে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
তবে ঘটনার কারণ নিয়ে ভিন্ন তথ্যও পাওয়া গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দার দাবি, জমি-সংক্রান্ত বিরোধসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জেরেই গুলির ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা। তবে হামলার প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই সাহিত্যিকাপল্লী ও আশপাশের এলাকায় পুলিশের তৎপরতা বাড়ানো হয়। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, গুলির ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আবুল মনসুর লুদুকে আটক করা হয়েছে। হামলার মূল কারণ, ব্যবহৃত অস্ত্রের উৎস এবং ঘটনার সঙ্গে আর কারা জড়িত—এসব বিষয় খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
তিনি আরও জানান, ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে প্রকাশ্য এলাকায় একজন যুবককে গুলি করার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ঘটনার পেছনে ব্যক্তিগত বিরোধ, জমি-সংক্রান্ত বিরোধ নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে, অস্ত্রটি কোথা থেকে এসেছে এবং হামলায় আরও কারা জড়িত—তদন্ত শেষে এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।