কক্সবাজার পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করার প্রশাসনিক প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে
পর্যটননগরী কক্সবাজারকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করার লক্ষ্যে প্রশাসনিক সীমানা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রস্তাবিত সম্প্রসারিত এলাকার সীমানা, আয়তন ও জনসংখ্যাসহ পৌরসভার সার্বিক তথ্য-উপাত্ত উল্লেখ করে একটি প্রশাসনিক প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বর্তমান কক্সবাজার পৌরসভার সঙ্গে রামু ও কক্সবাজার সদর উপজেলার আরও পাঁচটি ইউনিয়ন বা ইউনিয়নের অংশবিশেষ যুক্ত হয়ে নতুন সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে উঠবে।
বর্তমানে কক্সবাজার পৌরসভার আয়তন প্রায় ৩২ দশমিক ৯০ বর্গকিলোমিটার এবং জনসংখ্যা প্রায় পাঁচ লাখ। প্রস্তাবিত সম্প্রসারণের মাধ্যমে পৌরসভার বর্তমান সীমানার বাইরে থাকা গুরুত্বপূর্ণ জনবসতি ও ইউনিয়নগুলোকে একই নগর প্রশাসনের আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এতে কক্সবাজারের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা, নগরায়ণ, পর্যটন ও অবকাঠামোগত চাপকে সমন্বিতভাবে মোকাবিলার সুযোগ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
প্রশাসনিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত সিটি কর্পোরেশনের আওতায় রামু উপজেলার দক্ষিণ মিঠাছড়ি ও খুনিয়াপালং ইউনিয়ন এবং কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল, ঝিলংজা ও পিএমখালী ইউনিয়নকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের আয়তন ১৮ বর্গকিলোমিটার, খুনিয়াপালং ইউনিয়নের ৪৭ দশমিক ৮২ বর্গকিলোমিটার, খুরুশকুল ইউনিয়নের ২৩ দশমিক ৬৭ বর্গকিলোমিটার, ঝিলংজা ইউনিয়নের ২০ বর্গকিলোমিটার এবং পিএমখালী ইউনিয়নের আয়তন ২৭ দশমিক ২৫ বর্গকিলোমিটার।
প্রস্তাবিত সীমানা অনুযায়ী দক্ষিণ মিঠাছড়ি, খুনিয়াপালং, খুরুশকুল ও পিএমখালী ইউনিয়নের সম্পূর্ণ এলাকা নতুন সিটি কর্পোরেশনের আওতায় নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে ঝিলংজা ইউনিয়নের ক্ষেত্রে পুরো ইউনিয়ন নয়, নির্দিষ্ট কিছু মৌজা সম্প্রসারিত এলাকার অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে বর্তমান কক্সবাজার পৌরসভাসহ প্রস্তাবিত সম্প্রসারিত এলাকার মোট আয়তন দাঁড়াবে ১৬৯ দশমিক ৬৪ বর্গকিলোমিটার। অর্থাৎ বর্তমান পৌরসভার আয়তনের তুলনায় নতুন সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসনিক পরিসর কয়েকগুণ বেড়ে যাবে।
প্রশাসনিক নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী প্রস্তাবিত সম্প্রসারিত সীমানার এসব এলাকায় মোট জনসংখ্যা ছিল ৪ লাখ ৮ হাজার ৭২৭ জন। তবে গত কয়েক বছরে দ্রুত নগরায়ণ, আবাসিক ও বাণিজ্যিক স্থাপনা বৃদ্ধি এবং কক্সবাজারের পর্যটনকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিস্তারের ফলে বর্তমানে এসব এলাকায় আনুমানিক ১০ লাখ ৮০ হাজার মানুষের বসবাস রয়েছে বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফলে প্রস্তাবিত সিটি কর্পোরেশনের জনসংখ্যা ও আয়তন—দুই দিক থেকেই এটি একটি বড় নগর প্রশাসনিক ইউনিটে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে কক্সবাজার শহরের আশপাশের দ্রুত বর্ধনশীল এলাকাগুলোকে একটি সমন্বিত নগর ব্যবস্থাপনার আওতায় আনার ক্ষেত্রে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক নথিতে কক্সবাজার পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী রোমেল বড়ুয়া, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আদনান চৌধুরী এবং প্রশাসক মো. শামীম আল ইমরানের স্বাক্ষর রয়েছে। তাঁদের স্বাক্ষরিত তথ্যের ভিত্তিতেই প্রস্তাবিত সম্প্রসারিত এলাকার আয়তন ও বর্তমান জনসংখ্যার হিসাব তুলে ধরা হয়েছে।
কক্সবাজার দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র হওয়ায় প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক পর্যটকের আগমন ঘটে। একই সঙ্গে শহর ও আশপাশের এলাকায় জনসংখ্যা বৃদ্ধি, অপরিকল্পিত নগর সম্প্রসারণ, সড়ক যোগাযোগ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানি নিষ্কাশন, আবাসন ও নাগরিক সেবার ওপর চাপও বাড়ছে। এ বাস্তবতায় কক্সবাজার পৌরসভাকে বৃহত্তর প্রশাসনিক কাঠামোর আওতায় এনে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করার উদ্যোগকে স্থানীয় নগর ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে প্রস্তাবিত সীমানা চূড়ান্ত করা, অন্তর্ভুক্ত এলাকার প্রশাসনিক ও অবকাঠামোগত সক্ষমতা নিরূপণ এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নগুলোর কোন কোন অংশ সিটি কর্পোরেশনের আওতায় আসবে—এসব বিষয়ে পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ও সিদ্ধান্তের ওপরই চূড়ান্ত কাঠামো নির্ভর করবে।