চকরিয়ায় ৭৫ বছরের বৃদ্ধা মা’কে খুন, ছেলে-মেয়ে ও পুত্রবধূসহ গ্রেফতার চার
(ঘটনার রহস্য উদঘাটন করলো পিবিআই)
কক্সবাজারের চকরিয়ায় ৭৫ বছর বয়সী বৃদ্ধা মা আরফা বেগমকে হত্যার অভিযোগে ছেলে আব্দুল আজিজ, মেয়ে আলীমুন্নেছা, পুত্রবধু নাছরিন সুলতানা মুন্না ও কাজের মেয়ে জয়নব কে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কক্সবাজার। ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর দিবাগত রাতে চকরিয়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের হাফেজ টাওয়ারের একটি ফ্ল্যাটে এ নারকীয় ঘটনাটি ঘটে।
আসামিদেরকে আদালতে সোপর্দ করা প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, নিহত আরফা বেগম(৭৫) তার ছেলে আব্দুল আজিজ ও পুত্রবধু নাছরিন সুলতানা মুন্নার সাথে ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন। ঘটনার কয়েকদিন আগে পারিবারিক বিষয় নিয়ে ছেলে ও ছেলের বউয়ের সঙ্গে মনো-মালিন্যে জড়ান বৃদ্ধা আরফা বেগম। ঘটনার রাতে পুত্রবধু
নাছরিন সুলতানা মুন্না বৃদ্ধা শ্বাশুড়িকে রাতের খাবার খাওয়ানোর পর ঘুম পাড়িয়ে দেয়। পরে রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে ছেলে আবদুল আজিজ ও ছেলের বউ নাছরিন সুলতানা মুন্না পূর্ব-পরিকল্পিতভাবে বৃদ্ধা আরফা বেগমের পেটে ছুরি দিয়ে আঘাত করে। এতে তাঁর পেটের নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে যায় এবং ঐ ফ্ল্যাটেই মারা যায়। পরে ঘটনার খবর পেয়ে বৃদ্ধার মেয়ে আলীমুন্নেছা ঘটনাস্থলে আসে এবং ঘটনা আড়াল করতে বৃদ্ধার পেট থেকে বের হয়ে আসা নাড়িভুঁড়ি পলিথিনে পেঁচিয়ে পুনরায় পেটের ভেতরে ঢুকিয়ে কাপড় দিয়ে ঢেকে দেয়। এরপর হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি গোপন ও আলামত নষ্ট করতে কাজের মেয়ে জয়নব এর মাধ্যমে ফ্লোরের রক্ত পরিস্কার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে না জানিয়ে বৃদ্ধা আরফা বেগমের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে দাফন করা হয় বলেও পুলিশের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এবিষয়ে সিআর ৫১৬/২৬ নাম্বার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই কক্সবাজারে কর্মরত সাব-ইন্সপেক্টর রাজীব চন্দ্র পোদ্দার বলেন-মামলাটির তদন্তে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আসামিদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। পরে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে বৃদ্ধার ছেলে, মেয়ে ও পুত্রবধূসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদেরকে ১ সেপ্টেম্বর আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন আছে।