বি-১, বি-২ আর বি-৫২ যুদ্ধবিমানেও ইরানকে দমাতে পারছে না যুক্তরাষ্ট্র!
ইরানের সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করতে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র আওতায় ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ বিমান হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। পেন্টাগনের নির্দেশে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে প্রথমবারের মতো আমেরিকার শক্তিশালী ‘বোম্বার ট্রায়াড’ (তিন ধরনের কৌশলগত বোমারু বিমান) বি-১বি ল্যান্সার, বি-২ স্পিরিট এবং বি-৫২ স্ট্র্যাটোফোর্ট্রেসকে একসাথে মোতায়েন করা হয়েছে।
ওয়াশিংটনের দাবি, তেহরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল ভাণ্ডার, ড্রোন উৎপাদন কেন্দ্র এবং আইআরজিসির কমান্ড সেন্টারগুলো লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হচ্ছে। গত ১৩ মার্চ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইরানজুড়ে ৫ হাজার ৫০০-এর বেশি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে মার্কিন বাহিনী।
মার্কিন বিমান বাহিনীর এই বিধ্বংসী অভিযানে বি-১বি ল্যান্সার তার গতির ঝড় তুলে ইরানের গভীরে ঢুকে ব্যালিস্টিক মিসাইল ডিপোগুলো ধ্বংস করছে। অন্যদিকে, রাডারের চোখ ফাঁকি দিতে সক্ষম বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল যুদ্ধবিমান বি-২ স্পিরিট ব্যবহার করা হচ্ছে অতি সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারগুলো ধ্বংস করার জন্য। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা বা মাটির নিচে থাকা মিসাইল সাইটগুলোতে আঘাত হানতে বি-২ বোম্বার থেকে বিশেষ ধরনের ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বোমা ব্যবহার করা হয়েছে। এদিকে অভিযানের তীব্রতা বাড়াতে সম্প্রতি ব্রিটেনের রয়্যাল এয়ার ফোর্স ঘাঁটি থেকে যুক্ত হয়েছে বিশালাকার বি-৫২ বোমারু বিমান, যা কয়েক দশক ধরে মার্কিন বিমান শক্তির প্রধান স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত।
ইরানও এই হামলার মুখে হাত গুটিয়ে বসে নেই। তারা পাল্টা জবাব হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ঝাঁকে ঝাঁকে মিসাইল ও ড্রোন ছুড়েছে। তেহরানের দাবি, তারা ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের শতাধিক ড্রোন ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, এই যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার ইচ্ছা থাকলেও সামনে ইরানের জন্য আরও ভয়াবহ পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে।