শি জিনপিং দিল্লিতে, এর মধ্যেই ভারতের বিতর্কিত সীমান্তে কী করছে চীন? স্যাটেলাইটে মিলল চিত্র
চীনের সঙ্গে ভারতের বিতর্কিত সীমান্তের প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে চীনা বাহিনীর অগ্রযাত্রা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, চীনা সেনাবাহিনীর তৎপরতার কারণে তারা পূর্বপুরুষের চারণভূমি ও শিকারের জায়গা থেকে সরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। এর মধ্যেই স্যাটেলাইট চিত্রে ভারতের অরুণাচল প্রদেশের বিতর্কিত সীমান্ত বরাবর এবং এর কাছাকাছি এলাকায় চীনের নতুন ভবন, পাকা সড়ক ও হেলিপ্যাডসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের চিত্র উঠে এসেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের হাতে আসা স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত গোয়েন্দা তথ্য সংস্থা জেনস জানিয়েছে, তিব্বতের লহুনজে কাউন্টির উত্তরে ঝারি শহরের কাছে অন্তত দুটি এলাকায় সাম্প্রতিক নির্মাণকাজের স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। এসব এলাকার কিছু অবকাঠামো ভারত ও চীন উভয়ের দাবি করা বিতর্কিত ভূখণ্ডের ভেতরে পড়েছে।
এমন এক সময়ে এসব তথ্য সামনে এলো, যখন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারত সফর করছেন। শনিবার তিনি নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন। সেখানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তাঁর বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ২০২০ সালে গালওয়ান উপত্যকার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর এটিই শির প্রথম দিল্লি সফর।
স্যাটেলাইট চিত্রে কী দেখা গেল
ভ্যান্টর সরবরাহ করা স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে জেনসের বিশ্লেষকেরা আপার সুবনসিরি উপত্যকার একাধিক স্থানে সাম্প্রতিক নির্মাণ ও অবকাঠামোগত পরিবর্তনের তথ্য পেয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দা তাকোক ম্রার গ্রাম গেলেমোও এই অঞ্চলে অবস্থিত।
জেনস জানিয়েছে, ঝারি শহরের দক্ষিণে একটি স্থানে ২০১৯ সালের শুরুর দিকে নির্মাণকাজ শুরু হয়। ওই বছরের আগস্টে সেখানে প্রথম কাঠামো দেখা যায়। এরপর থেকে নির্মাণকাজ অব্যাহত রয়েছে। সেখানে জমি সমান করা, প্রকৌশল যান চলাচল এবং সিমেন্ট তৈরির প্ল্যান্ট স্থাপনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, স্থাপনাটি সামরিক কাজে ব্যবহারের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
শহরের ভেতরে আরেকটি নির্মাণস্থলও সামরিক স্থাপনা হতে পারে বলে মনে করছেন তাঁরা। কাছাকাছি একটি সড়ক প্রশস্ত করা হয়েছে এবং খাড়া ঢাল কমানো হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের উন্নয়ন সাধারণত ভারী সামরিক সরঞ্জাম পরিবহন সহজ করতে করা হয়।
লহুনজের দক্ষিণে দুটি ছোট হেলিপ্যাডের জায়গায় একটি বড় হেলিপ্যাড তৈরি করা হয়েছে। এর আরও দক্ষিণে নতুন আরেকটি হেলিপ্যাডও তৈরি করা হয়েছে।
২০২৬ সালের আগস্টের সর্বশেষ স্যাটেলাইট চিত্রে অন্তত একটি ভবনের ছাদ নির্মাণ শেষ হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। ভবনের নকশা, সামরিক যানের মতো দেখতে যানবাহনের উপস্থিতি এবং পাশের প্রশিক্ষণ এলাকা দেখে বিশ্লেষকেরা এটিকে সম্ভাব্য সামরিক ঘাঁটি হিসেবে দেখছেন। এ ছাড়া ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে শহরের সঙ্গে সংযোগকারী একটি নতুন সড়কও তৈরি করা হয়েছে।
আতঙ্কে সীমান্তের বাসিন্দারা
অরুণাচল প্রদেশের সীমান্ত থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরের প্রত্যন্ত একটি গ্রাম থেকে দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের সঙ্গে কথা বলেন স্থানীয় বাসিন্দা তাকোক ম্রা। পুরো অরুণাচল প্রদেশকে চীন নিজেদের অংশ দাবি করে এবং অঞ্চলটিকে ‘জাংনান’ বা ‘দক্ষিণ তিব্বত’ বলে অভিহিত করে।
ম্রার অভিযোগ, চীনা বাহিনী তাঁদের পূর্বপুরুষের জমি দখল করছে। এসব জমি থেকে স্থানীয়রা খাবার সংগ্রহ ও জীবিকা নির্বাহ করেন বলেও জানান তিনি। চীনা বাহিনী ভারতীয় ভূখণ্ডের অনেক ভেতরে ঢুকে পড়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ঠিক কত কিলোমিটার এলাকা দখল করা হয়েছে, তা তিনি বলতে না পারলেও বড় একটি এলাকা দখল করা হয়েছে।
চীনা তৎপরতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ার পর দুটি স্বাধীন অনুসন্ধানী দল পূর্ব হিমালয়ের ভারত চীন সীমান্ত থেকে প্রায় ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটার দূরের গেলেমো ও তাকসিং গ্রাম পরিদর্শন করেছে।
অল তাগিন স্টুডেন্টস ইউনিয়নের সভাপতি তাদাক পাকবার নেতৃত্বে আট সদস্যের একটি দল গত ১১ থেকে ১৩ আগস্ট পর্যন্ত তিন দিনের মাঠপর্যায়ের তদন্ত চালায়। তাঁরা স্থানীয় বাসিন্দা, আদিবাসী জনগোষ্ঠী ও সেনাবাহিনীর রসদ বহনকারীদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করেন।
পাকবার দাবি, বর্তমানে যেভাবে চীনা অনুপ্রবেশ ঘটছে, তা অতীতে কখনো দেখা যায়নি। তাঁর ভাষ্য, সীমান্তের গ্রামগুলোতে শুধু আতঙ্ক নয়, এটি এখন মাঠপর্যায়ের কঠিন বাস্তবতা। ভারতীয় সেনাবাহিনী পিছু হটছে এবং চীনা বাহিনী সামনে এগিয়ে আসছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তাঁদের তদন্তে বলা হয়, যেসব এলাকায় ভারতীয় সেনাবাহিনী নিয়মিত টহল দিত, সেসবের কয়েকটিতে চীনা বাহিনী প্রবেশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে শিকারের জায়গা ও ইয়াক চরানোর চারণভূমি। বহু বছর ধরে এসব এলাকায় ভারতীয় গ্রামবাসীদের যাতায়াত ছিল।
পাকবা বলেন, স্থানীয়দের এখন এসব এলাকায় যেতে নিষেধ করা হয়েছে। এতে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে এবং অনেকে সীমান্ত এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন। তাঁর দাবি, এসব ঘটনা চলতি বছরের জুন থেকে শুরু হয়েছে।
তদন্তকারী দলটি আপার সুবনসিরির ডেপুটি কমিশনার ও মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। প্রতিবেদনে তাকসিং গেলেমো সীমান্ত এলাকায় চীনা পিপলস লিবারেশন আর্মির উপস্থিতি ও তৎপরতা বন্ধে অবিলম্বে হস্তক্ষেপের দাবি জানানো হয়েছে। বিষয়টিকে সাধারণ উন্নয়ন সমস্যা না দেখে কৌশলগত ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়।
এর আগে স্থানীয় নাহ ওয়েলফেয়ার সোসাইটিও একই বিষয়ে আপার সুবনসিরির ডেপুটি কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি দেয়। সংগঠনটির অভিযোগ, স্থানীয়দের ঐতিহ্যবাহী চারণভূমি, শিকারের জায়গা ও বনজ সম্পদ সংগ্রহের এলাকায় পিএলএ সড়ক, সেতু ও সামরিক ক্যাম্প তৈরি করেছে।
সংগঠনটি বলেছে, তাকসিংয়ে চীনা পিএলএর তৎপরতার গতি ও উদ্দেশ্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। প্রতিদিন ইঞ্চি ইঞ্চি করে স্থানীয়রা তাঁদের জমি হারাচ্ছেন।
ম্রার পরিবারের সঙ্গে এই ভূমির সম্পর্ক ১৯৬২ সালের ভারত চীন যুদ্ধের পর থেকে। ৩৮ বছর বয়সী ম্রা বলেন, তিনি একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক এবং দেশ ও মাটি রক্ষার জন্য স্থানীয়দের হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়ার আহ্বান জানান।
সীমান্তের প্রত্যন্ত এলাকায় বসবাসকারী আদিবাসীরা সেনা চলাচলের খবর দ্রুত ভারতীয় বাহিনীকে জানান বলেও তিনি দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য, গত জুনের শুরুতে স্থানীয়রাই প্রথম এলাকায় চীনা সেনাদের উপস্থিতির কথা ভারতীয় বাহিনীকে জানিয়েছিলেন। এরপর সেনাবাহিনী সেখানে তৎপরতা বাড়ায়।
অবকাঠামো নিয়ে ক্ষোভ
সীমান্তের গ্রামগুলোতে বিদ্যুৎ, সড়ক, স্বাস্থ্যসেবা ও স্কুলের মতো মৌলিক সুবিধার অভাব নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন ম্রা। তাঁর মতে, সীমান্তের ওপারে চীনের অবকাঠামো উন্নয়নের সঙ্গে ভারতের অংশের পরিস্থিতির বড় পার্থক্য রয়েছে।
তিনি বলেন, গেলেমো গ্রামে গেলে স্থানীয়দের নিজেদের পুরো পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন মনে হয়। মৌলিক সুযোগ সুবিধার অভাবে মানুষ জীবিকার জন্য জেলা সদরে চলে যাচ্ছে। এ কারণে সীমান্ত এলাকা ধীরে ধীরে ফাঁকা হয়ে পড়ছে। তাঁর ধারণা, জনবসতি কমে যাওয়ায় চীনা বাহিনীর সামনে এগিয়ে আসার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
পিপলস পার্টি অব অরুণাচলের চার সদস্যের আরেকটি দলও সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করেছে। দলটির সদস্য ছিলেন সংগঠনটির প্রধান উপদেষ্টা ও রাজ্যের সাবেক মন্ত্রী কাপা বেঙ্গিয়া।
তাঁরা তাকসিং, গেলেমো এবং সীমান্তের কাছের গ্রামগুলোর অন্যতম মাজা পরিদর্শন করেন। বেঙ্গিয়ার দাবি, চীনা সেনাবাহিনী ইতোমধ্যেই সামনে এগিয়েছে এবং ভারতীয় টহল দলকে নিজেদের ভূখণ্ডের দিকেও যেতে দেওয়া হচ্ছে না।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্রত্যন্ত তাকসিং সার্কেলের নঙ্গা পাহাড়, যা নাহ ও অন্যান্য আদিবাসী জনগোষ্ঠী ঐতিহাসিকভাবে ব্যবহার করত, এখন স্থানীয়দের জন্য পুরোপুরি নিষিদ্ধ এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে।
ভারত ও চীনের প্রতিক্রিয়া
তবে ভারতীয় সেনাবাহিনী বিতর্কিত ভূখণ্ডে চীনা অনুপ্রবেশের এসব অভিযোগকে ভুল ও ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবশ্য তুলনামূলক সতর্ক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। মন্ত্রণালয় বলেছে, দুই দেশের শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে সীমান্ত সমস্যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, দুই দেশের সার্বিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অবস্থা সীমান্ত পরিস্থিতির ওপর প্রতিফলিত হবে।
চীনও নতুন করে সীমান্ত উত্তেজনার বিষয়টি নিশ্চিত বা অস্বীকার করেনি। বেইজিংয়ে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেন, চীন ভারত সীমান্ত পরিস্থিতি বর্তমানে সামগ্রিকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে।
অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডুর বক্তব্যে অবশ্য উদ্বেগের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি বলেন, রাজনাথ সিং বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন ও সক্রিয়। আগামী দিনগুলোতে অরুণাচলকে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সহায়তা দেওয়ার কথাও তিনি জানিয়েছেন।
‘সালামি স্লাইসিং’ কৌশল
দিল্লির জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের চীন বিষয়ক অধ্যাপক শ্রীকান্ত কোন্ডাপল্লীর মতে, অরুণাচলে চীনের তৎপরতা ‘সালামি স্লাইসিং’ কৌশলের অংশ। এই কৌশলে বড় ধরনের আকস্মিক আগ্রাসনের বদলে দীর্ঘ সময় ধরে ধীরে ধীরে সামান্য করে ভূখণ্ড দখল এবং সেখানে নিজেদের অবস্থান শক্ত করা হয়।
কোন্ডাপল্লী বলেন, প্রথমে চীনারা সীমান্তে কয়েকটি চমরী গাই ছেড়ে দিয়ে ভারতীয় বাহিনীর প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করে। কয়েক মাস কোনো বাধা না পেলে সেখানে ছোট একটি চালাঘর তৈরি করা হয়। পরে সেটিকে স্থায়ী স্থাপনায় রূপ দেওয়া হয়। কোনো প্রতিরোধ না হলে একপর্যায়ে সেখানে সামরিক ক্যাম্পও গড়ে তোলা হয়।
তিনি অরুণাচল ও তিব্বতের মধ্যবর্তী অঞ্চলকে একটি ‘ধূসর এলাকা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, সেখানে ম্যাকমোহন লাইন আইনিভাবে সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত নয়।
ভারত সরকার চীনের ‘শ্যাওকাং’ বা সমৃদ্ধ সীমান্ত মডেল গ্রামের বিপরীতে ‘ভাইব্রেন্ট ভিলেজ প্রোগ্রাম’ চালু করেছে। তবে কোন্ডাপল্লীর মতে, ভারতের এই কর্মসূচি সফল হয়নি। কারণ এ জন্য বড় ধরনের একটি সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন ছিল।
তাঁর দাবি, চীন লংজুতে প্রায় ১০০টি আধুনিক মডেল গ্রাম তৈরি করেছে এবং সেখান থেকে অরুণাচলের ভারতের দাবি করা এলাকার দিকে বিস্তার শুরু করেছে।
কোন্ডাপল্লীর মতে, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় ভারতের নিয়মিত পৌঁছাতে না পারার অক্ষমতাই চীনকে এই কৌশল বাস্তবায়নের সুযোগ দিচ্ছে।
তিনি বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত ভারত নিজেদের অবকাঠামো তৈরি করে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় অবস্থান সুসংহত করতে না পারছে, ততক্ষণ দরকষাকষির সুযোগ সীমিত থাকবে। চীনা বাহিনী মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় পৌঁছাতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর দাবি, চীন ১৯৮০ এর দশকেই সেখানে সড়ক নির্মাণ শুরু করেছিল, অথচ ভারত অনেক পরে এ বিষয়ে তৎপর হয়েছে।
সীমান্ত নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই শি জিনপিংয়ের ভারত সফরকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে দুই দেশ। ব্রিকস সম্মেলনে শি ও মোদির মধ্যে যেকোনো অগ্রগতির দিকে নজর থাকবে ভারতীয়দের। তবে সংবাদমাধ্যমের সামনে দুই নেতার সরাসরি মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা কম হওয়ায় এবারের সফরে সীমান্ত ইস্যুটি আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপিত হওয়ার সম্ভাবনাও কম বলে মনে করেন কোন্ডাপল্লী।
আগামী বছর ব্রিকসের আয়োজক হতে যাওয়া চীন ও ভারত উভয়ই এবারের সম্মেলনকে সফল বৈঠক হিসেবে তুলে ধরতে বেশি আগ্রহী বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সূত্র: ইন্ডিপেনডেন্ট