কক্সবাজার সৈকতের বালিয়াড়িতে সড়ক নির্মাণ: জেলা প্রশাসকসহ চারজনকে আদালত অবমাননার নোটিশ
বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারের বালিয়াড়ির ওপর সড়ক নির্মাণকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে নির্মাণকাজ শুরুর অভিযোগে জেলা প্রশাসকসহ চারজনকে আদালত অবমাননার নোটিশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) প্রেসিডেন্ট অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ।
নোটিশপ্রাপ্তরা হলেন, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক এম এ মান্নান, সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের পরিচালক রাশিদুর রহমান, কক্সবাজার পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা আদনান চৌধুরী এবং জাইকার বাংলাদেশ প্রতিনিধি তাকাহাসকি জানকো।
জানা যায়, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের বালিয়াড়িতে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের মাধ্যমে সৈকতের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ও সৌন্দর্য নষ্ট করার অভিযোগে এইচআরপিবির পক্ষ থেকে জনস্বার্থে রিট করা হয়েছিল। ওই রিটের শুনানি শেষে ২০১১ সালে আদালত সৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বৈশিষ্ট্য সংরক্ষণ এবং বালিয়াড়িতে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ না করার নির্দেশ দেন।
আদালতের নির্দেশ অমান্য করে আগে নির্মিত বিভিন্ন স্থাপনাও আদালতের আদেশে দুই দফায় অপসারণ করা হয়েছিল।
এরই মধ্যে আদালতের নির্দেশনা বহাল থাকা অবস্থায় কক্সবাজার পৌরসভার উদ্যোগে এবং জাইকার অর্থায়নে সৈকতের বালিয়াড়ির ওপর দিয়ে নতুন করে সড়ক নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে—এমন খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নোটিশ দেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ।
নোটিশে বলা হয়েছে, আদালতের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা এবং অতীতে বালিয়াড়ির স্থাপনা অপসারণের নজির থাকা সত্ত্বেও সেখানে সড়ক নির্মাণের কার্যক্রম শুরু করা আদালতের আদেশের লঙ্ঘন ও আদালত অবমাননার শামিল।
নোটিশে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বালিয়াড়ির ওপর চলমান সড়ক নির্মাণকাজ বন্ধ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। অন্যথায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
নোটিশটি সংশ্লিষ্টদের ই-মেইল ও ডাকযোগে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ।
সৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, বালিয়াড়ি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় আদালতের নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।