বাঁকখালী নদীতে সীমানা পিলার স্থাপন: আন্দোলনের মুখে পিছু হটল প্রশাসন
কক্সবাজারের বাঁকখালী নদীতে উচ্ছেদ হওয়া তীরের জমিতে সীমানা পিলার স্থাপনকে কেন্দ্র করে রবিবার (৭ ডিসেম্বর) উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা যখন পিলার বসানোর চেষ্টা শুরু করলে বাধা দেন, তখন প্রশাসন পিছু হটতে বাধ্য হয়। বিআইডব্লিউটিএ কার্যক্রম স্থগিত করে পরবর্তীতে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছে। আন্দোলনকারীরা বলছেন, প্রশাসনের বেআইনি কোনো কর্মকাণ্ড মেনে নেয়া হবে না।
বেলা ১২টার দিকে সীমানা পিলার স্থাপন করতে গেলে জমি মালিকরা টায়ার জ্বালিয়ে এবং গাছ ফেলে কক্সবাজার-খুরুশকুল সড়ক অবরোধ করেন। লাঠি হাতে কয়েকশ নারী-পুরুষ প্রশাসনের সামনে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানায় এবং স্লোগানে মুখর করে রাখে কস্তুরাঘাট এলাকা। স্থানীয় বাসিন্দারা এবং কিছু রাজনৈতিক নেতাও আন্দোলনে যোগ দেন।
পূর্বনির্ধারিত সময় সকাল ১০টার পরিবর্তে বিপুল সংখ্যক আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ বেলা ১২টায় ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এরপর জমির মালিকদের সঙ্গে কর্মকর্তাদের ৩০ মিনিট ধরে বাগ্বিতণ্ডা চলে। পরে প্রশাসন বাধ্য হয়ে পিছু হটে।
জমির মালিক শেখ নেওয়াজ জানান, প্রশাসনের বেআইনি কর্মকাণ্ড তারা কোনোভাবেই মেনে নেবেন না এবং এমন কর্মকাণ্ড প্রতিহত করতে মাঠে থাকবেন। বিআইডব্লিউটিএ কক্সবাজার নদী বন্দরের পোর্ট অফিসার মো. আব্দুল ওয়াকিল বলেন, বাধার মুখে আপাতত সীমানা পিলার স্থাপন কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে এবং সরকারি কাজে বাধা দেয়ার জন্য আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চলতি বছরের ১–৫ সেপ্টেম্বর কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে সাড়ে ৪০০ স্থাপনা উচ্ছেদ করে বাঁকখালী নদীর দখল হওয়া ৬৩ একর জমি উদ্ধার করা হয়েছিল। এই উদ্যোগ নদীর পুনরুদ্ধার এবং নৌচলাচল নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছিল। তবে সীমানা পিলার স্থাপনের মাধ্যমে নদীর ধার সঠিকভাবে চিহ্নিত করার চেষ্টা স্থানীয়দের প্রতিবাদে আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।