সদর উপজেলা

মোবাইল চুরিতে বাধা দেওয়ায় ছুরিকাঘাত, একই পরিবারের ৪ জনসহ আহত ৫

কক্সবাজারের খুরুশকুলে বসতঘর থেকে মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে একই পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নারীসহ পরিবারের চার সদস্য এবং এক প্রতিবেশী আহত হয়েছেন।

আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর হিন্দু পাড়ার হরিপুকুর পাড় বটগাছতলা সড়কে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় নিলাপতি দে (৫৫) বাদী হয়ে একই এলাকার মৃত সুকুমার কান্তি দের ছেলে প্রিয়তোষ কান্তি দে (৩৫), প্রাণতোষ কান্তি দে (৩২) ও বিশু কান্তি দে (২৬) এবং অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ থেকে ছয়জনকে অভিযুক্ত করে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় এজাহার দিয়েছেন।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন সকালে নিলাপতি দের নাতি প্রমিত দে মোবাইল ফোন ঘরে রেখে পূজা দিতে মন্দিরে যান। এ সময় ভুলবশত ঘরের প্রধান দরজা খোলা ছিল। সেই সুযোগে প্রিয়তোষ কান্তি দে ঘরে প্রবেশ করে প্রমিতের ব্যবহৃত একটি শাওমি ১৩ লাইট মোবাইল ফোন নিয়ে বেরিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, বিষয়টি দেখে নিলাপতি দের ছেলে সুভাষ দে তাঁকে থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় তাঁর হাতে মোবাইল ফোনটি দেখতে পেয়ে সেটি ফেরত চাইলে প্রিয়তোষ কান্তি দে তাঁকে মারধর করেন। একপর্যায়ে ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করে সুভাষের পিঠ ও বাম হাতের আঙুলে জখম করেন। পরে কাঠের লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করে তাঁকে আহত করার অভিযোগও করা হয়েছে।
সুভাষের চিৎকার শুনে পরিবারের অন্য সদস্যরা এগিয়ে এলে তাঁদের ওপরও হামলা চালানো হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রাণতোষ কান্তি দে ও বিশু কান্তি দে ধারালো দা দিয়ে নিলাপতি দের স্বামী বাবুল দেকে আঘাত করেন। এ সময় পরিবারের আরেক সদস্য কাজল দে এবং নিলাপতি দেকেও মারধর করা হয়। নিলাপতি দের পরনের কাপড় ছিঁড়ে শ্লীলতাহানি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ছাড়া তাঁদের উদ্ধার করতে এগিয়ে আসা প্রতিবেশী জন কান্তি দেকেও ছুরিকাঘাতে আহত করার অভিযোগ রয়েছে। হামলার সময় মামলা করলে পরিবারের সদস্যদের হত্যা ও লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হয় বলে এজাহারে দাবি করেছেন বাদী।

পরে স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে বাবুল দে ও তাঁর দুই ছেলেকে পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীর দাবি, চুরি হওয়া মোবাইল ফোনটি তাঁদের হেফাজতে রয়েছে এবং ঘটনার বিষয়ে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ রয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্তদের সাথে একাধিক যোগাযোগের চেষ্টা করে হলে মুঠোফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগের বিষয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আলী জানান, এ-ঘটনায় এজাহার জমা দেওয়া হয়েছে। দ্রুত তদন্ত করে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হবে।

ক্যাটাগরি