সোমবার, ৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৩শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিনোদন

বাসর রাতে মুখ ধোয়ার পর কনেকে চিনতে পারছেন না বর, অতঃপর

বিয়ের পিঁড়িতে হাসিমুখে বসেছিলেন। কিন্তু বাসর ঘরে ঢুকেই যেন মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে,এমনই অভিযোগ তুলেছেন ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার চন্ডিপুর এলাকার যুবক রায়হান কবির। তার দাবি, যাকে দেখে পছন্দ করে বিয়ে করেছিলেন, ঘোমটা খুলতেই দেখা যায় তিনি অন্য কেউ। এই ‘পাত্রী বদল’ অভিযোগকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিন ধরে পীরগঞ্জ ও রাণীশংকৈল এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও উত্তেজনা চলছে।

তবে সোমবার (তারিখ) ঘটনায় নতুন মোড় নেয়। কনের পরিবারের দায়ের করা মামলায় জামিন নামঞ্জুর করে আদালত রায়হান কবিরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ঘটনার সূত্রপাত জুলাইয়ের শেষ দিকে। রায়হান কবিরের পরিবারের জন্য পাত্রী খুঁজতে গিয়ে ঘটক মোতালেবের মাধ্যমে রাণীশংকৈল উপজেলার বাসিন্দা জিয়ারুল হকের মেয়ে জেমিন আক্তারের সঙ্গে দেখা হয়। বরপক্ষের দাবি, শিবদিঘী এলাকার একটি চায়ের দোকানে প্রথম পাত্রী দেখানো হয়। ওই তরুণীকে পছন্দ হওয়ায় বিয়ের প্রস্তুতি নেওয়া হয় এবং ১ আগস্ট ধুমধাম করে বিয়ে সম্পন্ন হয়। পরে কনেকে নিয়ে বাড়ি ফেরেন রায়হান।

রায়হানের অভিযোগ, বাসর রাতে কনে মুখ ধোয়ার পর তিনি বুঝতে পারেন, যাকে আগে দেখেছিলেন তিনি এই নারী নন। তার ভাষ্য, অতিরিক্ত মেকআপের আড়ালে অন্য একজনকে তার ঘরে পাঠানো হয়েছে।

রায়হানের মামা বাদল মিঞা অভিযোগ করেন, বিয়ের সময় অতিরিক্ত মেকআপ থাকায় আমরা বুঝতে পারিনি। বাসর রাতে বিষয়টি পরিষ্কার হয়। ঘটক ও মেয়ের বাবা পরিকল্পিতভাবে আমাদের প্রতারণা করেছেন।এর পরদিনই কনেকে বাপের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয় বলে জানান বরপক্ষ।

তবে কনের বাবা জিয়ারুল হক পুরো ঘটনাকে সাজানো নাটক বলে দাবি করেন। তার বক্তব্য, “৭০ জন বরযাত্রীর সামনে বিয়ে হয়েছে, তখন কেউ চিনতে পারল না—এটা কীভাবে সম্ভব? আসলে বিয়ের পরই তারা ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। আমি জমি বিক্রি করে টাকা দেওয়ার কথা বলায় সময় চাইলে তারা রাজি হয়নি। এখন আমার মেয়ের নামে মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছে।”

ঘটক মোতালেবও অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি কোনো ভুল মেয়ে দেখাইনি। বাড়িতেই মেয়ে দেখানো হয়েছিল। পরে ওরা নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। সোমবার ঠাকুরগাঁও আদালতে রায়হান কবিরের জামিন আবেদন করা হলে বিচারক তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ঠাকুরগাঁও আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন বলেন, “প্রতারণার অভিযোগে জামিনের আবেদন করা হলেও কোনো সমঝোতা না হওয়ায় আদালত তাকে জেল হাজতে পাঠানোর আদেশ দেন। বিষয়টি এখন বিচারাধীন, আদালতের রায়েই প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।”

ক্যাটাগরি