বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৫ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিনোদন

লোকসংগীতের এক উজ্জ্বল কণ্ঠ থেমে গেল, না ফেরার দেশে বাউলশিল্পী সুনীল কর্মকার

প্রখ্যাত বাউল ও লোকসংগীতশিল্পী সুনীল কর্মকার আর নেই। শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যু বরণ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

১৯৫৯ সালের ১৫ জানুয়ারি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার বান্দনাল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন সুনীল কর্মকার। শৈশব থেকেই লোকজ সংগীতের প্রতি গভীর অনুরাগ ছিল তার। বিখ্যাত বাউলশিল্পী ওস্তাদ জালাল উদ্দিন খাঁর গান শুনেই গানের জগতে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে নিবেদন করেন তিনি।

সুনীল কর্মকার শুধু কণ্ঠশিল্পীই নন, বেহালা, দোতারা, তবলা ও হারমোনিয়ামসহ একাধিক বাদ্যযন্ত্র বাজাতে ছিলেন সমান দক্ষ। ওস্তাদ জালাল উদ্দিন খাঁর অসংখ্য গানে তিনি সুর করেছেন এবং কণ্ঠ দিয়েছেন, যার মধ্যে বহু গান দেশজুড়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করে। পাশাপাশি তিনি নিজেও প্রায় দুই শতাধিক গান রচনা করেছেন।

একতারা ও দোতারার সুরে তার কণ্ঠের বিশেষ আবেদন শ্রোতাদের মুগ্ধ করত। তার গানে মানবপ্রেম, জীবনদর্শন ও স্রষ্টার প্রতি গভীর ভক্তির প্রকাশ ছিল স্পষ্ট। ‘মানুষ ধরো, মানুষ ভজো’—এই দর্শনভিত্তিক গানে কণ্ঠ দিয়ে তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।

সুনীল কর্মকারের প্রয়াণে বাংলা লোকসংগীত অঙ্গন হারাল এক খাঁটি বাউল ও গ্রামবাংলার লোকজ ঐতিহ্যের একনিষ্ঠ ধারককে। তার আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করেছেন সহশিল্পী ও ভক্তরা।

ময়মনসিংহ বিভাগীয় বাউল সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, সুনীল কর্মকার দীর্ঘদিন ধরে বাউল ও লোকসংগীতের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে আধ্যাত্মিক চেতনার বাণী পৌঁছে দিয়েছেন। তার অবদান লোকসংগীতের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

ক্যাটাগরি