মলত্যাগ করিয়ে ২ রোহিঙ্গার পেট থেকে ৯০ হাজার পিস ইয়াবা বের করল র্যাব
কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামে পাচারের উদ্দেশ্যে বিশেষ কৌশলে পেটের ভেতরে ইয়াবা বহনকারী দুই রোহিঙ্গা মাদক কারবারিকে আটক করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-৭। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে ধাপে ধাপে মলত্যাগ করিয়ে তাদের পেট থেকে ৯০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) র্যাব-৭-এর সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) এ আর এম মোজাফফর হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
আটক দুজন হলেন কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২-এর বাসিন্দা মো. শাহ আলম (৪৯) ও মো. রফি উল্লাহ (৩৫)।
র্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, কক্সবাজারের উখিয়া থেকে একটি বড় ইয়াবার চালান সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে চট্টগ্রামে নেওয়া হচ্ছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে রোববার (২ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার তৈলারদ্বীপ সরকারহাট এলাকায় চট্টগ্রামমুখী সড়কে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযান চলাকালে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তল্লাশি চালিয়ে সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা পেটের ভেতরে ইয়াবা বহনের কথা স্বীকার করলে তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়।
হাসপাতালে এক্স-রে পরীক্ষায় তাদের পেটের ভেতরে বিপুল পরিমাণ ইয়াবার প্যাকেট থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে ধাপে ধাপে মলত্যাগের মাধ্যমে মো. শাহ আলমের পেট থেকে কালো স্কচটেপে মোড়ানো ৯০টি এবং মো. রফি উল্লাহর পেট থেকে আরও ৯০টি প্যাকেট বের করা হয়। মোট ১৮০টি প্যাকেট খুলে ৯০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
র্যাবের তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২৭ লাখ টাকা। ইয়াবাগুলো স্বচ্ছ পলিপ্রপিলিন ব্যাগে ভরে কালো স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো ছিল, যাতে বহনের সময় সহজে শনাক্ত করা না যায়।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ইয়াবার এই চালানটি চট্টগ্রাম হয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহের উদ্দেশ্যে পাচার করা হচ্ছিল।
র্যাব জানিয়েছে, আটক দুই আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।