বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

দফায় দফায় ভূমিকম্পে কাঁপল দেশ, ৭৫ মিনিটে তিনবার কম্পন

মাত্র ৭৫ মিনিটের ব্যবধানে পরপর তিনটি ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল। শনিবার (৩ অক্টোবর) দিবাগত রাত সোয়া ১২টা থেকে রাত দেড়টার মধ্যে মিয়ানমার, ভারতের মিজোরাম ও ত্রিপুরা অঞ্চলে এসব ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়। পরে ভোরের দিকেও আরও একটি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে।

ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) ও ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজির তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ভূমিকম্পটি হয় শনিবার রাত ১২টা ১২ মিনিটে মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৯।

এই ভূমিকম্পের কম্পন কক্সবাজার ও টেকনাফ সীমান্তবর্তী এলাকায় অনুভূত হয়। চট্টগ্রামেও অনেকে ভূমিকম্পের কম্পন টের পান।

এক মিনিটের ব্যবধানে দ্বিতীয় ভূমিকম্প

প্রথম ভূমিকম্পের মাত্র এক মিনিট পরেই, রাত ১২টা ১৩ মিনিটের দিকে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী ভারতের মিজোরামের লুংলেই এলাকায় আরেকটি ভূমিকম্প সংঘটিত হয়। এর মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ০।

তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী এই ভূমিকম্পের কম্পন চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ফেনী, নোয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অনুভূত হয়েছে বলে জানা গেছে।

পরপর দুটি ভূমিকম্পের ঘটনায় সীমান্তবর্তী অঞ্চলের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

রাত ১টা ২৭ মিনিটে আবার কাঁপল

এরপর রাত ১টা ২৭ মিনিটে ভারতের ত্রিপুরা অঞ্চলে তৃতীয় ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৮।

ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজির তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ত্রিপুরার ডালাই এলাকায়। অপেক্ষাকৃত কম মাত্রার হলেও এর কম্পন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অনুভূত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

ভোরেও ভূমিকম্প

রাতের পর ভোরেও ভূমিকম্পের খবর পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ভোর ৪টার দিকে ঢাকা থেকে প্রায় ৪৪৩ কিলোমিটার দূরে ৪ দশমিক ৮ মাত্রার একটি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়।

ফলে রাত থেকে ভোর পর্যন্ত কয়েক দফা ভূমিকম্পের ঘটনায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা

ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল দেশের বাইরে হলেও বাংলাদেশ ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলের কাছাকাছি হওয়ায় মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পও দেশের বিভিন্ন এলাকায় অনুভূত হতে পারে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য সীমান্তবর্তী অঞ্চল ভূমিকম্পের কম্পন তুলনামূলক বেশি অনুভব করতে পারে।

তবে পরপর কয়েকটি ভূমিকম্প হওয়া মানেই বড় ধরনের ভূমিকম্প আসন্ন—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। ভূমিকম্পের পরবর্তী আচরণ নির্ভর করে ভূতাত্ত্বিক পরিস্থিতির ওপর এবং নির্দিষ্টভাবে কখন বা কোথায় বড় ভূমিকম্প হবে তা বিজ্ঞানীরা আগে থেকে নির্ভুলভাবে পূর্বাভাস দিতে পারেন না।

এ অবস্থায় আতঙ্কিত না হয়ে ভূমিকম্পের সময় নিরাপদ অবস্থানে থাকা, ভবনের ভেতরে থাকলে জানালা ও ভারী আসবাব থেকে দূরে সরে যাওয়া এবং জরুরি পরিস্থিতিতে নিরাপদে বের হওয়ার প্রস্তুতি রাখার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাতের কয়েক দফা ভূমিকম্পের পর এখন পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর না পাওয়া গেলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

ক্যাটাগরি