শনিবার, ১৩ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতীয়

১৫ বছরের গুম নিয়ে তদন্ত কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন অনলাইনে প্রকাশ

গত ১৫ বছরে দেশে সংঘটিত গুমের ঘটনা নিয়ে পূর্ণাঙ্গ চূড়ান্ত প্রতিবেদন অনলাইনে প্রকাশ করেছে গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশন।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ প্রতিবেদনের অনলাইন লিংক শেয়ার করা হয়। পোস্টে বলা হয়, বাংলাদেশে গত ১৫ বছরে জোরপূর্বক গুম কোনো বিচ্ছিন্ন বা বিচ্ছিন্নতাবাদী ঘটনা ছিল না; বরং এটি ছিল একটি সুপরিকল্পিত, প্রাতিষ্ঠানিক এবং রাজনৈতিকভাবে সংঘটিত অপরাধ।

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তদন্ত কমিশনের এই চূড়ান্ত প্রতিবেদনে গুমের শিকার ব্যক্তিদের করুণ অভিজ্ঞতা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্টতা, গোপন আটককেন্দ্র, নির্যাতনের ধরন এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে গুমকে একটি কাঠামোবদ্ধ অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে এর পেছনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া ও বাস্তবায়ন কাঠামো বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গুমের ঘটনা কেবল ব্যক্তিগত অপরাধ নয়, বরং রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ভেতরে থাকা কিছু শক্তিশালী গোষ্ঠীর মাধ্যমে সংগঠিত হয়েছে, যা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ভয়াবহ দৃষ্টান্ত। অনেক ক্ষেত্রে পরিবারগুলো বছরের পর বছর প্রিয়জনের খোঁজ না পেয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে সময় কাটিয়েছে।

কমিশন তাদের প্রতিবেদনে ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত, দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা এবং ভবিষ্যতে এমন অপরাধ যাতে আর না ঘটে সে লক্ষ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের সুপারিশ করেছে। পাশাপাশি গুমের শিকার পরিবারগুলোর পুনর্বাসন, ক্ষতিপূরণ ও সামাজিক স্বীকৃতির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় জানিয়েছে, স্বচ্ছতা ও জনসচেতনতা নিশ্চিত করতে এই প্রতিবেদন সবার জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে, যাতে নাগরিকরা রাষ্ট্রের অতীত মানবাধিকার পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত হতে পারেন এবং জবাবদিহির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হয়।

গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন অনলাইনে ডাউনলোড করা যাবে সরকারি পোর্টালের মাধ্যমে।

ক্যাটাগরি