শনিবার, ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ৪ঠা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজার জেলা

কক্সবাজার রেলস্টেশনে টিকিট কালোবাজারি অভিযোগে দুদকের তদন্ত শুরু

কক্সবাজারের কক্সবাজার আইকনিক রেলওয়ে স্টেশন-এ টিকিট বিক্রিতে অনিয়ম ও কালোবাজারির অভিযোগে তদন্তে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা যাচাইয়ে তিন সদস্যের একটি এনফোর্সমেন্ট টিম গঠন করা হয়েছে।

দুদকের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ হুমায়ুন বিন আহমদের স্বাক্ষরিত চিঠির মাধ্যমে স্টেশন মাস্টার গোলাম রব্বানীর কাছে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টিকিট বিক্রির পূর্ণাঙ্গ তথ্য, অনলাইন-অফলাইন ডেটা, কোটা বরাদ্দ, রিফান্ড রেকর্ড এবং ডিউটি রোস্টারসহ বিভিন্ন নথি জমা দিতে বলা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে টিকিট ‘ব্লক’ করে সাধারণ যাত্রীদের বঞ্চিত করছে এবং পরে অতিরিক্ত দামে বিক্রি করছে। এতে প্রতিদিন বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেন হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যাত্রীদের অভিযোগ, কাউন্টার কিংবা অনলাইন—কোনো মাধ্যমেই সহজে টিকিট পাওয়া যায় না, কিন্তু পরে একই টিকিট বেশি দামে পাওয়া যায়।

স্টেশন মাস্টার গোলাম রব্বানীর বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি, প্রশাসনিক অনিয়ম এবং সিন্ডিকেটের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। তবে তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “তদন্ত চলমান, সত্যতা থাকলে তদন্তেই বেরিয়ে আসবে।”

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে স্টেশন চালুর পর থেকেই টিকিট সংকট ও কালোবাজারির অভিযোগ সামনে আসে। একই বছরের ডিসেম্বরে আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেয়।

বর্তমানে কক্সবাজার-ঢাকা ও কক্সবাজার-চট্টগ্রাম রুটে যাত্রী সংখ্যা বাড়ায় টিকিটের চাহিদা ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সুযোগকে কেন্দ্র করেই সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম শিগগিরই সরেজমিনে তদন্ত শুরু করবে। তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এদিকে অভিযোগ রয়েছে, কক্সবাজারের বিভিন্ন হোটেলের সঙ্গে সমন্বয় করে রুম বুকিংয়ের বিপরীতে কমিশন নেওয়ার মাধ্যমেও টিকিট ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম করা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগও অস্বীকার করেছেন স্টেশন মাস্টার, দাবি করেছেন—তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে এবং তিনি কোনো ধরনের ঘুষ গ্রহণ করেন না।

ক্যাটাগরি