শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৬ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আর্ন্তজাতিক

ট্রাম্পের দখল-হুমকিতে আতঙ্কিত গ্রিনল্যান্ডবাসী, ঘুম হারাম সাধারণ মানুষের

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে গ্রিনল্যান্ড দখল বা কিনে নেওয়ার অব্যাহত হুমকির মুখে দ্বীপ রাষ্ট্রটির সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গ্রিনল্যান্ডের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী নাজা নাথানিয়েলসেন জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন বক্তব্যে অনেক মানুষ রাতে ঠিকমতো ঘুমাতেও পারছেন না।

লন্ডনে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, গ্রিনল্যান্ড দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধু ও মিত্র হলেও তারা কোনোভাবেই আমেরিকার অংশ হতে চায় না। ট্রাম্পের মন্তব্যকে তিনি “আপত্তিকর ও বিভ্রান্তিকর” আখ্যা দিয়ে বলেন, গ্রিনল্যান্ডবাসী এটিকে চরম বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে দেখছে, কারণ তারা সবসময়ই যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে এসেছে।

এক প্রশ্নের জবাবে নাথানিয়েলসেন সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি সামরিক অভিযান চালায় বা জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করে, তবে তা আন্তর্জাতিক আইন ও বিদ্যমান সব চুক্তির গুরুতর লঙ্ঘন হবে। তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে তা শুধু গ্রিনল্যান্ড নয়, পুরো ন্যাটো জোট ও আন্তর্জাতিক আইন ব্যবস্থার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।

আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাশিয়া ও চীনের তৎপরতা পর্যবেক্ষণে ন্যাটোকে আরও বেশি সুযোগ দিতে তারা প্রস্তুত। তবে এর অর্থ এই নয় যে গ্রিনল্যান্ড নিজের সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দেবে।

উল্লেখ্য, গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীসহ দেশটির সব রাজনৈতিক দল আগেই স্পষ্ট করেছে যে গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়। তবুও ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডকে একটি “বড় আবাসন চুক্তির” সঙ্গে তুলনা করে এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য বলে দাবি করেছেন।

এই উত্তেজনার মধ্যেই বুধবার ওয়াশিংটনে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি ট্রাম্পের সম্ভাব্য আগ্রাসী মনোভাব ঠেকাতে ব্রিটেনসহ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ গ্রিনল্যান্ডে সৈন্য মোতায়েনের বিষয়েও আলোচনা করছে বলে জানা গেছে।

সূত্র: আনাদোলু

ক্যাটাগরি