সোমবার, ৩রা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৯শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজার জেলা

মাদক নির্মুলে কঠোর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, চার দিনে কক্সবাজারে উদ্ধার ৫০ কোটি টাকার ইয়াবা!

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে সালাহউদ্দিন আহমদ দায়িত্ব গ্রহণের পর নড়েচড়ে বসেছে কক্সবাজার–এর প্রশাসন। মিয়ানমার সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় বিজিবি ও পুলিশের পৃথক মাদকবিরোধী অভিযানে চারদিনে মোট ১৫ লাখ ৩০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত এসব মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫০ কোটি টাকা। অভিযানে এক নারীসহ তিনজন গ্রেপ্তার হয়েছেন।

সর্বশেষ শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৫টার দিকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ–এর কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) পরিচালিত অভিযানে ৮০ হাজার ইয়াবাসহ বছির আহম্মেদ (৫০) নামের এক রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়। এর আগে শুক্রবার রাত ১০টার দিকে সীমান্ত পিলার-৩৬ সংলগ্ন এলাকায় পরিত্যক্ত অবস্থায় ২ লাখ ৫০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম জানান, ঘুমধুম ও বাইশফাঁড়ী বিওপির টহলদল এ অভিযান পরিচালনা করে। তিনি বলেন, বিজিবি শুধু সীমান্ত পাহারাই নয়, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধেও সমানভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এর আগে ১৮ ফেব্রুয়ারি উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) ৯ লাখ ৮০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করে। এ সময় মাদক কারবারিদের সঙ্গে গোলাগুলির ঘটনাও ঘটে। প্রায় ২৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা মূল্যের ইয়াবাগুলো টেকনাফ–এর হ্নীলা ও হোয়াইক্যং বিওপির পৃথক অভিযানে উদ্ধার করা হয়। উখিয়া ব্যাটালিয়নের কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম জানান, সাম্প্রতিক সময়ে এটি সবচেয়ে বড় ইয়াবা চালান উদ্ধারের ঘটনা।

অন্যদিকে, নম্বরবিহীন একটি মিনি ট্রাক ধাওয়া করে ১ লাখ ৫০ হাজার ইয়াবাসহ একজনকে গ্রেপ্তার করে রামু থানা পুলিশ। এছাড়া ৭০ হাজার ইয়াবাসহ রামুর এক নারীকে বসতবাড়ি থেকে আটক করা হয়। রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন, মাদক কারবারিদের দমনে পুলিশ বদ্ধপরিকর এবং নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-1 আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন সালাহউদ্দিন আহমদ এবং একই দিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি সীমান্ত দিয়ে মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান রোধে কঠোর নির্দেশ দেন।

স্থানীয়দের মতে, কক্সবাজারের মানুষ হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সীমান্তকেন্দ্রিক চোরাচালানের দুর্বলতা সম্পর্কে অবগত। ফলে তার কাছে প্রত্যাশা যেমন বেশি, তেমনি স্থানীয় প্রশাসনের ওপরও চাপ বেড়েছে। প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইয়াবা রুট, গভীর রাতে নৌপথে চলাচল এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন সন্দেহজনক তৎপরতা নজরদারিতে রেখে নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সৃত্র: ঢাকা পোস্ট

ক্যাটাগরি