শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ৩রা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজার জেলা

মাতামুহুরী হচ্ছে কক্সবাজার জেলার দশম উপজেলা

চকরিয়া উপজেলা-র সাতটি ইউনিয়ন নিয়ে প্রস্তাবিত ‘মাতামুহুরী’ উপজেলা গঠনের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রশাসনিক সীমানা নির্ধারণ ও সার্বিক নিরীক্ষার অংশ হিসেবে শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রথম সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার জানান, ‘মাতামুহুরী’ উপজেলা গঠন দীর্ঘদিনের জনদাবি। প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট দপ্তর, স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে চকরিয়া উপজেলায় নতুন তিনটি ইউনিয়ন গঠনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত নতুন ইউনিয়নগুলো হলো— হারবাং থেকে পৃথক করে ‘উত্তর হারবাং’, বরইতলী থেকে ‘পহরচাঁদা’ এবং ডুলহাজারা থেকে ‘মালুমঘাট’ ইউনিয়ন।

প্রস্তাবিত মাতামুহুরী উপজেলার জনসংখ্যা প্রায় তিন লাখ। সাহারবিল, ভেওলা মানিকচর, পূর্ব বড় ভেওলা, পশ্চিম বড় ভেওলা, কোনাখালী, ঢেমুশিয়া ও বদরখালী—এই সাতটি ইউনিয়ন নিয়ে নতুন উপজেলা গঠনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ইউনিয়নগুলো জুড়ে প্রবাহিত হয়েছে প্রায় ২৮৭ কিলোমিটার দীর্ঘ মাতামুহুরী নদী। মূলত এই নদীর নামানুসারেই উপজেলার নামকরণ প্রস্তাব করা হয়েছে।

সভায় অংশ নেওয়া কক্সবাজার জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ইউসুফ বদরী জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ–এর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবেই মাতামুহুরী উপজেলা গঠনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সরকারের প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভায় বিষয়টি অনুমোদনের আশা প্রকাশ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, ২০০১ সালে যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সালাহউদ্দিন আহমদ বৃহত্তর চকরিয়া উপজেলা থেকে পৃথক করে পেকুয়া উপজেলা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণাকালেও মাতামুহুরী উপজেলা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যক্তিগত প্রেস সচিব ছাফওয়ানুল করিম বলেন, প্রায় ২৫ বছর আগে সাংগঠনিক উপজেলা হিসেবে ঘোষণার পর এবার পূর্ণাঙ্গ উপজেলা হিসেবে স্বীকৃতি পেতে যাচ্ছে মাতামুহুরী।

প্রস্তাবিত উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের স্কুলশিক্ষক মোহাম্মদ জাহেদুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হলে প্রান্তিক অঞ্চলের মানুষের প্রশাসনিক সেবা পাওয়া সহজ হবে এবং উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

বর্তমানে কক্সবাজার জেলায় ৯টি উপজেলা রয়েছে। মাতামুহুরী অনুমোদিত হলে এটি হবে জেলার দশম উপজেলা।

সূত্র: ঢাকা পোস্ট

ক্যাটাগরি