বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৬শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধর্ম

মহেশখালীতে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে জন্মাষ্টমী উদযাপন

বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রায় মুখরিত মহেশখালী

আনন্দঘন ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে কক্সবাজারের মহেশখালীতে উদযাপিত হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী। পরম প্রেমময় ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুভ আবির্ভাব তিথি স্মরণে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দিনব্যাপী নানা ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ- মহেশখালী উপজেলা শাখার আয়োজনে অনুষ্ঠিত এসব কর্মসূচির মধ্যে ছিল মধুসূদন স্তুতি, নগর কীর্তন, শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পাঠ প্রতিযোগিতা, ধর্মীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সমবেত উপাসনা, ভোগারতি, মহাপ্রসাদ বিতরণ, মঙ্গল মহাশোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, সন্ধ্যা আরতি, পালা কীর্তন ও শ্রীমদ্ভাগবত পাঠ।

শুক্রবার বিকেলে বাবু দিঘীর পূর্ব পাড়, গোরকঘাটা শ্রীশ্রী কালী মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য বলেন, “বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। আমাদের হাজার বছরের অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে বজায় রেখে মহেশখালী উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন ও ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”

তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা জানান এবং এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।

উদ্বোধন শেষে ঢাক-ঢোল, কীর্তন ও নানা রঙের বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও প্রধান প্রধান স্থান প্রদক্ষিণ করে। শোভাযাত্রায় বিপুলসংখ্যক নারী-পুরুষ ও শিশু-কিশোর ভক্ত অংশ নেন। ভক্তদের পদচারণা ও ধর্মীয় সঙ্গীতে পুরো মহেশখালী উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।

এর আগে ভোর ৪টা ৩০ মিনিটে মধুসূদন স্তুতি ও নগর কীর্তনের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। সকাল ৮টা ১ মিনিটে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পাঠ প্রতিযোগিতা এবং সকাল ১০টা ১ মিনিটে ধর্মীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। দুপুরে সমবেত উপাসনা ও ভোগারতির পর ভক্তদের মাঝে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হয়।

বিকেলে মঙ্গল শোভাযাত্রা শেষে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ, গণ্যমান্য ব্যক্তি, সুধীজন এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

রাতে সন্ধ্যা আরতি ও সমবেত উপাসনা, গীতা পাঠ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের পুরস্কার বিতরণ, শ্রীকৃষ্ণের পালা কীর্তন এবং রাতব্যাপী শ্রীমদ্ভাগবত পাঠের আয়োজন করা হয়। মধ্যরাতে শ্রীকৃষ্ণের পূজা ও ব্রত-ব্রতীদের মাঝে প্রসাদ বিতরণ করা হয়।

এদিকে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে মহেশখালী থানাধীন বিভিন্ন মঠ-মন্দিরেও শ্রীকৃষ্ণের পূজা, গীতা প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।

উৎসবের দ্বিতীয় দিন ৫ সেপ্টেম্বর শনিবার ভোরে মধুসূদন স্তুতি এবং সকাল ৭টা ১ মিনিটে শ্রীকৃষ্ণের নন্দ উৎসব ও সমাপনী পূজা অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজক সূত্রে জানা যায়, সকাল ১০টা ১ মিনিট ৯ সেকেন্ডের মধ্যে পারণ সম্পন্ন করা হবে।

শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ-বাংলাদেশ, মহেশখালী উপজেলা শাখার আয়োজনে অনুষ্ঠিত এবারের উৎসবকে ঘিরে পুরো উপজেলায় সৃষ্টি হয়েছে আনন্দমুখর পরিবেশ। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ভক্তি, কীর্তন ও সম্প্রীতির বার্তায় উৎসবটি পরিণত হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মিলনমেলায়।

আয়োজকরা জানান, শ্রীকৃষ্ণের আদর্শ, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির চেতনাকে সামনে রেখে প্রতি বছরই জন্মাষ্টমী উৎসবকে সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

ক্যাটাগরি