সেন্টমার্টিনের অদূরে নৌবাহিনীর অভিযান: মালয়েশিয়াগামী বোট থেকে ৭৬ জন উদ্ধার, আটক ১১ পাচারকারী
সেন্টমার্টিনের অদূরে সমুদ্রপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়াগামী একটি কাঠের বোট থেকে ৭৬ জনকে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ১১ জনকে মানব পাচারকারী চক্রের সদস্য হিসেবে শনাক্ত করে আটক করা হয়েছে। অপর ৬৫ জনকে মালয়েশিয়াগমনের জন্য পাচারকারীদের প্রতারণার শিকার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ৩০ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে নিয়মিত টহল পরিচালনার সময় সেন্টমার্টিন লাইট হাউস থেকে আনুমানিক ৮১ মাইল দূরে এ ঘটনা ঘটে।
নৌবাহিনী জানায়, সমুদ্রে মাছ ধরার কাজে নিয়োজিত এফভি ক্রিস্টাল-১ একটি ইঞ্জিন বিকল অবস্থায় ভাসমান কাঠের বোট দেখতে পায়। বোটে থাকা কয়েকজনের আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তারা বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে নৌবাহিনীকে জানায়। খবর পেয়ে সেন্টমার্টিন ও তৎসংলগ্ন এলাকায় টহলরত নৌবাহিনীর জাহাজ বানৌজা খালিদ বিন ওয়ালিদ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বোটটি উদ্ধার করে।
এ সময় বোটটিতে পানি প্রবেশ করছিল। নৌবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং বোটে থাকা ৭৬ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করেন। পরে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা, খাদ্য ও প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা দেওয়া হয়।
নৌবাহিনীর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, উদ্ধার হওয়া ৬৫ জনের অধিকাংশকে মানব পাচারকারী চক্রের সদস্যরা টেকনাফের দুর্গম এলাকায় আটকে রেখে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর চেষ্টা করছিল। এ ঘটনায় ১১ জনকে পাচারকারী চক্রের সদস্য হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।
আটক ১১ জন এবং জব্দ করা কাঠের বোটটি পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টেকনাফ থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম চলছে বলে জানিয়েছে নৌবাহিনী।
নৌবাহিনীর এই অভিযানে মানব পাচারকারী চক্রের সদস্যদের আটক করার পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা ৭৬ জনকে সম্ভাব্য দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় মানব পাচার, চোরাচালানসহ সব ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে নৌবাহিনীর নিয়মিত টহল ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।