মঙ্গলবার, ২৮শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৩ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজার জেলা

টেকনাফে জন্মদিনে ‘আগুনের শো’ পুড়ল মোটরসাইকেল

কক্সবাজারের টেকনাফে এক ব্যতিক্রমী ও ঝুঁকিপূর্ণ আয়োজন করে জন্মদিন উদযাপন করেছেন ‘আত্মস্বীকৃত’ মাদক কারবারি মোহাম্মদ শাহ আজম। ব্যাডমিন্টন কোর্টজুড়ে পেট্রল ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে তিনি তৈরি করেন বড়সড় একটি ‘আগুনের শো’। সেই আগুনের মাঝে দাঁড়িয়ে ব্যাডমিন্টন খেলতে খেলতে ভিডিও ধারণ করেন। কনটেন্ট তৈরির এই বিপজ্জনক আয়োজন থেকে কয়েক লাখ টাকার একটি মোটরসাইকেল সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। তবে শতাধিক মানুষের ভিড় থাকা সত্ত্বেও কেউ আহত হয়নি এবং আগুন পাশের বাড়িঘরে ছড়ায়নি।

শনিবার গভীর রাতে টেকনাফের হ্নীলা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। শাহ আজম তার ফেসবুক পেজে ৩৬ সেকেন্ডের যে ভিডিওটি পোস্ট করেছেন তাতে দেখা যায়— প্রায় ৩৫ ফুট লম্বা ও ১৫ ফুট চওড়া ব্যাডমিন্টন কোর্টের চারপাশে আগুন জ্বালানো। কোর্টের লাইন ধরে জ্বলছে আগুন, আর নেটের কাছে পেট্রল দিয়ে লেখা হয়েছে ‘30 Years’। তিনি ক্যাপশনে লিখেছেন, “Alhamdulillah 30 years done.”

অন্য একটি ভিডিওতে দেখা যায়, পরিচিত কনটেন্ট নির্মাতা সেলিম পেট্রলভর্তি বোতল থেকে একটি মোটরসাইকেলের ওপর আগুন ঢালছেন। শাহ আজম মশাল হাতে পাশে দাঁড়িয়ে তা পর্যবেক্ষণ করছেন। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে দুজনই দ্রুত সরে যান। তারপর কয়েকজন যুবক পানি ও বালু দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। ঘটনাস্থলে থাকা কয়েকজনকে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় বলতে শোনা যায়- “আজিয়া গাড়ি ইয়ান জ্বলিবো ফাল্লাই লাগেদ্দিয়া,” যার অর্থ “আজকে বাইকটা বুঝি পুরো জ্বলে যাবে।”

স্থানীয় লোকজন বলছেন, মাদকের টাকায় বিলাসিতা দেখাতে গিয়ে শাহ আজম ভয়ংকর ঝুঁকি নিয়েছেন। আগুনের পাশে কোনো ধরনের অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা রাখা হয়নি। কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, শুষ্ক মৌসুমে আগুনের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি, এমন সময়ে প্রকাশ্যে দাহ্য পদার্থ দিয়ে আগুন জ্বালানো অগ্নিপ্রতিরোধ আইন অনুযায়ী অপরাধ এবং যে কোনো মুহূর্তে বড় বিপর্যয় ঘটতে পারত।

এ ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন স্থানীয় কনটেন্ট নির্মাতা বেলাল হোসেন। তিনি তার পেজে লিখেছেন, “নিজ চোখে দেখলাম আগুন নিয়ে ভিডিও করার পরিণতি।” আরেক কনটেন্ট নির্মাতা লোকমান তার পেজে মন্তব্য করেন- মিথ্যা বা সাজানো ভিডিও দেখে অনেকেই বিপজ্জনক কনটেন্ট বানাতে গিয়ে নিজের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। তিনি জানান, অল্পের জন্য বেলাল, শাহ আজম ও সেলিম প্রাণে বেঁচে গেছে।

গত ২৮ নভেম্বর ময়মনসিংহের গৌরীপুরে কনটেন্ট নির্মাতা আল আমিন আগুনের ভিডিও বানাতে গিয়ে মারাত্মক দগ্ধ হন এবং বর্তমানে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এসব ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আগুনভিত্তিক ‘স্টান্ট ভিডিও’ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, আসন্ন হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে নিজেকে প্রস্তুত করছেন শাহ আজম। তিনি নিয়মিত মানবিক সাহায্য ও প্রচারণামূলক ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করেন। ২০১৯ সালে তিনি ১০২ জন মাদক কারবারির সঙ্গে আত্মসমর্পণ করেন এবং পরবর্তী দুই বছর কারাভোগ করেন। তবে ২০২১ সালে আবারও এক লাখ ইয়াবাসহ গ্রেফতার হন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।

ক্যাটাগরি