জিয়া উদ্যানে স্বামীর পাশে সমাহিত হলেন খালেদা জিয়া, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন দাফন
সাড়ে চার দশক আগে যেখানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে সমাহিত করা হয়েছিল, সেই জিয়া উদ্যানেই স্বামীর পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৪টায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার দাফন সম্পন্ন হয়।
এর আগে বুধবার বিকাল ৩টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকায় অনুষ্ঠিত হয় খালেদা জিয়ার জানাজা। জানাজায় অংশ নেন লক্ষাধিক মানুষ। সংসদ ভবনের ভেতর-বাইরের এলাকা, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এবং আশপাশের সড়ক-গলিপথ জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
উল্লেখ্য, এই মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতেই ১৯৮১ সালের ২ জুন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। পরে তাকে চন্দ্রিমা উদ্যানে (বর্তমান জিয়া উদ্যান) সমাহিত করা হয়।
১৯৬০ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ক্যাপ্টেন জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন খালেদা জিয়া। মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমান ১ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার ও জেড ফোর্সের অধিনায়ক ছিলেন এবং বীর উত্তম খেতাবে ভূষিত হন। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে তিনি নিহত হন।
স্বামীর মৃত্যুর পর রাজনীতিতে সক্রিয় হন খালেদা জিয়া। ১৯৮৪ সালে বিএনপির চেয়ারপারসন নির্বাচিত হয়ে আমৃত্যু তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন। সামরিক শাসক এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে আপসহীন ভূমিকার কারণে তিনি ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
৪০ দিন ধরে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার ভোর ৬টায় চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মৃত্যুতে দেশে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয় এবং বুধবার সাধারণ ছুটি দেওয়া হয়।
বুধবার সকালে এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে তার মরদেহ গুলশানে ছেলে তারেক রহমানের বাসভবনে নেওয়া হয়। পরে জাতীয় পতাকায় মোড়ানো লাশবাহী গাড়িবহর বেলা পৌনে ১২টার দিকে সংসদ ভবন এলাকায় পৌঁছায়।
জানাজায় অংশ নেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌ ও বিমান বাহিনীর প্রধানসহ সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা এবং দেশ-বিদেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন।
জানাজার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তারেক রহমান মায়ের জন্য সবার কাছে দোয়া চান এবং প্রয়াত নেত্রীর পক্ষ থেকে কারও কাছে কোনো দেনা বা কষ্ট থাকলে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
খালেদা জিয়ার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ঢাকায় আসেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করসহ পাকিস্তান, ভুটান, মালদ্বীপ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার প্রতিনিধিরা। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীনসহ বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক মিশনের প্রধানরাও জানাজায় অংশ নেন।
রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটলো।