শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ৩রা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজার জেলা

বিমানে বোমা আতঙ্ক: কক্সবাজার বিমান বন্দরে অভিযান মহড়া

ছবিতে কক্সবাজার বিমান বন্দরে মহড়ার দৃশ্য

সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৮ জন যাত্রী ও ২ জন কেবিন ক্রু নিয়ে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে একটি ফ্লাইট যাত্রা শুরু করে। উড্য়নের মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে কক্সবাজার বিমানবন্দরের কন্ট্রোল টাওয়ারে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন আসে। কলদাতা জানায়, বিমানটির ভেতরে একটি বোমা রাখা হয়েছে এবং তা যেকোনো সময় বিস্ফোরিত হতে পারে। মুহূর্তেই বিমানবন্দর জুড়ে সতর্কতা জারি হয়।

কন্ট্রোল টাওয়ার দ্রুত বিষয়টি বিমানবন্দর পরিচালক এবং এভিয়েশন সিকিউরিটি ইনচার্জকে জানায়। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে, হুমকিটিকে বাস্তবসম্মত হিসেবে বিবেচনা করে বিমানবন্দর পরিচালক Risk Advisory Group-এর সঙ্গে আলোচনা করে ‘ফুল এমার্জেন্সি’ ঘোষণা করেন। এরপর ইমারজেন্সি অপারেশনস সেন্টার সক্রিয় করা হয় এবং বিমানবাহিনী, সেনাবাহিনী, র‍্যাব, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, সিভিল ডিফেন্স ও মেডিকেল ইউনিটসহ সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থাকে অবহিত করা হয়।

এটি বাস্তবে নয়, বরং কক্সবাজার বিমানবন্দরে অনুষ্ঠিত এয়ারপোর্ট সিকিউরিটি এক্সারসাইজ ২০২৬ শীর্ষক পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা মহড়ার দৃশ্যপট। বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় শুরু হওয়া মহড়ার মাধ্যমে হাইজ্যাক, বোমা হামলা এবং অন্যান্য ঝুঁকি মোকাবেলার সক্ষমতা যাচাই করা হয়। এসএআরপিএস ও এনসিএএসপি-এর নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি বিমানবন্দর প্রতি দুই বছরের মধ্যে একবার এমন মহড়া আয়োজনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

মহড়ায় অংশ নেয় বেবিচক, বাংলাদেশ বিমানবাহিনী, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, র‍্যাব, কক্সবাজার জেলা পুলিশ, এপিবিএন, আনসার, সিভিল সার্জন ও জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল টিম এবং বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সসহ বিভিন্ন সংস্থা। বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোঃ মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন।

প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে সকল অংশগ্রহণকারী সংস্থাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এ ধরনের মহড়া শুধু দুর্বলতা শনাক্তের সুযোগই দেয় না, বরং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় বৃদ্ধির মাধ্যমে যাত্রীসেবায় আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মহড়ার সফলতা সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও দায়িত্বশীলতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি আরও বলেন, মহড়ার মাধ্যমে যেকোনো অনভিপ্রেত পরিস্থিতি দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৮ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কার্গো ভিলেজে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডের সময়ও বিভিন্ন সংস্থা একযোগে কাজ করে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছিল। চলতি বছর অনুষ্ঠিতব্য ICAO নিরাপত্তা অডিটের প্রস্তুতিতেও এ ধরনের মহড়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রধান অতিথি আরও জানান, কক্সবাজার বিমানবন্দর ১০,৭০০ ফুটে রানওয়ে উন্নীতকরণ এবং নতুন আন্তর্জাতিক টার্মিনাল নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। মহড়ায় উপস্থিত ছিলেন বেবিচকের সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) এয়ার কমডোর আবু সাঈদ মেহ্‌বুব খান, সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমডোর মোঃ আসিফ ইকবাল এবং অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও গণমাধ্যম প্রতিনিধি।

ক্যাটাগরি