প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে প্রশ্ন বাণিজ্য: কক্সবাজারে চলছে লাখ টাকার কারবার
কক্সবাজার শহরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা ঘিরে অন্তত তিনটি প্রশ্ন ফাঁস চক্র সক্রিয় রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। শুক্রবার সারাদেশের মতো কক্সবাজারেও একযোগে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও এর আগেই প্রশ্ন ফাঁসের প্রস্তুতির অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, এই তিনটি চক্রের একটি কক্সবাজার শহরের হোটেল সায়মনকে ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করছে। সেখানে পরীক্ষার্থীদের একত্রিত করে ফাঁসকৃত প্রশ্ন সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পরীক্ষার্থী জানান, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সঙ্গে যুক্ত কিছু লোকের মাধ্যমেই এসব প্রশ্ন সরবরাহ করা হয় বলে চক্রটি দাবি করছে।
চক্রগুলো বিভিন্ন দামে প্রশ্ন বিক্রির প্রস্তাব দিচ্ছে। কোথাও পুরো সেটের দাম ধরা হচ্ছে তিন লাখ টাকা, আবার কিছু ক্ষেত্রে ৫০ হাজার টাকাতেও প্রশ্ন দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। তবে পুরো টাকা পরীক্ষা শেষে পরিশোধের শর্তে চুক্তি করা হচ্ছে। চুক্তির সময় মোট টাকার ১০ থেকে ২০ শতাংশ অগ্রিম নেওয়া হচ্ছে এবং বাকি টাকার জন্য ব্ল্যাঙ্ক চেক রাখা হচ্ছে বলেও জানা গেছে।
যারা এসব চক্রের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন, তাদেরকে পরীক্ষার একদিন আগে জেলা শহরে এসে অবস্থান করতে বলা হয়েছে। হোটেল সায়মনের চক্রের ক্ষেত্রে পরীক্ষার্থীদের সকাল আটটার মধ্যে নির্ধারিত কক্ষে প্রবেশ করতে বলা হচ্ছে। কক্ষে ঢোকার আগে মোবাইল ফোনসহ সব ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস জমা দিতে হবে। এরপর প্রিন্ট করা প্রশ্নপত্র দিয়ে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা পড়ার সুযোগ দেওয়া হবে এবং পরে সেই কপি ফেরত নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
এই চক্রগুলোর সঙ্গে ইতোমধ্যে বিভিন্ন উপজেলা থেকে বেশ কয়েকজন পরীক্ষার্থী চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন এবং তাদের সবাইকে কক্সবাজার শহরে ডেকে আনা হয়েছে বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে।
শুক্রবার বিকেল তিনটায় জেলার ১৮টি কেন্দ্রে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। কক্সবাজার জেলায় ১২৩টি পদের বিপরীতে অংশ নিচ্ছেন মোট ১৫ হাজার ৫৪০ জন পরীক্ষার্থী।
প্রশ্ন ফাঁসের এমন অভিযোগে পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় পরীক্ষার সুষ্ঠু ও ন্যায্য আয়োজন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি ও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।