স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মোসাব্বির হত্যাকান্ডের কারণ জানাল ডিবি প্রধান
স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মোসাব্বিরের হত্যাকাণ্ড ব্যবসাকেন্দ্রিক হতে পারে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। রোববার বিকেলে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম।
তিনি বলেন, বিভিন্নভাবে তদন্ত করে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং শনাক্তের পর ডিবির একাধিক টিম ঢাকা, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, ভৈরব ও কিশোরগঞ্জে অভিযান চালায়। অভিযানে দুই শুটারের একজন জিন্নাত (২৪) এবং ঘটনার মূল সমন্বয়কারী মো. বিল্লাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিল্লালের বাবা শহীদুল্লাহ।
এ ছাড়া ঘটনার পর আসামিদের পালাতে সহায়তা করার অভিযোগে শহীদুল্লাহর ভাই আব্দুল কাদির (২৮) এবং ঘটনার আগে ঘটনাস্থলে রেকি করতে সহযোগিতা করা মো. রিয়াজ (৩২) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ডিবি প্রধান জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি নম্বরবিহীন মোটরসাইকেল ও ছয় হাজার টাকা জব্দ করা হয়েছে। মোটরসাইকেলটি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহার করা হয়েছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তবে হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র এখনো উদ্ধার করা যায়নি এবং এ বিষয়ে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য ও আন্ডারওয়ার্ল্ডের কোনো সংশ্লিষ্টতা আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ভিকটিম একজন রাজনৈতিক দলের নেতা হওয়ায় রাজনৈতিক কোনো কারণ রয়েছে কি না, সেটিও গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি ব্যবসাকেন্দ্রিক বিরোধ থেকে সংঘটিত হতে পারে। গ্রেপ্তারকৃতদের কারও রাজনৈতিক পরিচয় নেই বলেও তিনি জানান। তবে তাদের কেউ কেউ কারওয়ান বাজার এলাকায় ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে ওঠাবসা করতেন।
তিনি আরও জানান, ঘটনায় রহিম নামে আরেক শুটার এখনো পলাতক রয়েছে এবং তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। হত্যাকাণ্ডের জন্য বিদেশ থেকে ১৫ লাখ টাকা পাঠানো হয়েছে—এমন তথ্যের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্তের আওতায় রয়েছে।
ডিবি প্রধান আরও বলেন, মোসাব্বির কিছুদিন আগে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছিলেন এবং সেখানে মারামারির ঘটনা ঘটে, যার জেরে একটি মামলা রয়েছে। তিনি একজন উদীয়মান ও জনপ্রিয় নেতা ছিলেন—এই দিকগুলোও তদন্তে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ৭ জানুয়ারি রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের স্টার গলিতে দুর্বৃত্তরা আজিজুর রহমান মোসাব্বিরকে গুলি করে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে পান্থপথের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় তার সঙ্গে থাকা তেজগাঁও থানা রিকশা-ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান বেপারী মাসুদও গুলিবিদ্ধ হন।