বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৪ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আর্ন্তজাতিক

৯ তলা থেকে লাফিয়ে পড়ে একসঙ্গে ৩ বোনের আত্মহত্যা!

ভারতের উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদে এক হৃদয়বিদারক ঘটনার খবর এসেছে, যেখানে একই পরিবারের তিন নাবালিকা বোন—বিশিকা (১৬), প্রাচী (১৪) ও পাখি (১২)—একসঙ্গে আত্মহত্যা করেছেন। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) শহরের একটি আবাসিক সোসাইটির ৯ তলা ভবন থেকে লাফ দিয়ে তারা প্রাণ হারায়। ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, আত্মহত্যার আগে বোনেরা নিজেদের ঘরের দরজা ভেতর থেকে তালাবদ্ধ করে রাখে। ভোররাতে আশপাশের বাসিন্দারা ঘুমে থাকায় কেউ তা টের পাননি। পরে নিচে পড়ার বিকট শব্দে এলাকাবাসী জেগে ওঠেন এবং পরিবারের সদস্যরা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে জানতে পারেন, ততক্ষণে তিন বোন ভবন থেকে লাফিয়ে পড়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তিন বোন দীর্ঘদিন ধরে একটি কোরিয়ান অনলাইন গেমে অতিমাত্রায় আসক্ত ছিল। গেম আসক্তি পারিবারিক অশান্তির অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। করোনাকালীন সময় থেকে তারা গেমে এতটাই ডুবে যায় যে নিয়মিত স্কুলেও যেত না। গেমের প্রিয় চরিত্রের অনুকরণে নিজেদের কোরিয়ান নাম ব্যবহার করত।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, তারা প্রায় সব কাজ—খাওয়া, ঘুমানো, গোসল—একসঙ্গে করত এবং বাইরের জগতের সঙ্গে যোগাযোগ ক্রমেই কমিয়ে দিচ্ছিল। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যেখানে কান্নার ইমোজি সহ লেখা ছিল, “দুঃখিত, বাবা।”

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা হিসেবে ধরা হলেও পারিবারিক পরিস্থিতি, মানসিক অবস্থা, অনলাইন গেম আসক্তি এবং অন্যান্য সম্ভাব্য কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মনোবিজ্ঞানী ও সামাজিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, কিশোর-কিশোরীদের মানসিক চাপ, একাকিত্ব এবং অনলাইন আসক্তি এখন বৈশ্বিক উদ্বেগের বিষয়। তারা মনে করেন, পরিবারে খোলামেলা যোগাযোগ, নিয়মিত মানসিক সহায়তা এবং অনলাইন ব্যবহারে সচেতন নজরদারি থাকলে এমন মর্মান্তিক ঘটনা অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব। এই ঘটনা শুধুমাত্র পারিবারিক ট্র্যাজেডি নয়, সমাজের জন্য একটি কঠোর সতর্কবার্তা হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

ক্যাটাগরি