বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৪ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজার জেলা

কক্সবাজারে ৫৯৮ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩২৯টি ঝুঁকিপূর্ণ, বাড়তি নিরাপত্তা প্রস্তুত প্রশাসনের

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কক্সবাজার জেলায় ভোটগ্রহণ ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বাড়তি সতর্কতা জারি করেছে জেলা প্রশাসন। জেলার চারটি সংসদীয় আসনের মোট ৫৯৮টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩২৯টিকে প্রশাসনিকভাবে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করে বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। বাস্তবে এসব কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, এসব কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ নির্বিঘ্ন রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন, নিয়মিত টহল এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হবে। অপরদিকে, বাকি ২৬৯টি কেন্দ্রকে সাধারণ শ্রেণিতে রাখা হয়েছে, যেখানে প্রচলিত নিরাপত্তা ব্যবস্থাই কার্যকর থাকবে। প্রশাসনের মতে, জেলার চারটি আসনের প্রতিটিতে ঝুঁকির ধরন ও মাত্রা ভিন্ন।

কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া):
এই আসনে মোট ১৮০টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৯৩টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে চকরিয়া উপজেলায় ১৩০টি কেন্দ্রের ৭৩টি এবং পেকুয়া উপজেলায় ৪৭টির মধ্যে ২০টি কেন্দ্র রয়েছে। অতীতের রাজনৈতিক সংঘর্ষ, তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও স্থানীয় উত্তেজনাকে এখানে প্রধান ঝুঁকির কারণ হিসেবে দেখছে প্রশাসন।

কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া):
এই আসনে মোট ১২৪টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫৯টি ঝুঁকিপূর্ণ। মহেশখালী উপজেলায় ৮৬টির মধ্যে ২৭টি এবং কুতুবদিয়ায় ৩৮টির মধ্যে ৩২টি কেন্দ্র বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে। দ্বীপাঞ্চল হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা জটিল এবং উপকূলীয় ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা চ্যালেঞ্জিং বলে মনে করছে প্রশাসন।

কক্সবাজার-৩ (কক্সবাজার সদর, রামু ও ঈদগাঁও):
এই আসনেই ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। মোট ১৮২টি কেন্দ্রের মধ্যে ১০৯টিকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। কক্সবাজার সদরে ৮২টির মধ্যে ৫০টি, রামুতে ৬৪টির মধ্যে ৩৫টি এবং ঈদগাঁওয়ে ৩৬টির মধ্যে ২৪টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত। জনবহুল এলাকা, রাজনৈতিক চাপ এবং কিছু দুর্গম কেন্দ্রের কারণে এখানে বাড়তি সতর্কতার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ):
এই আসনে মোট ১১৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ৬৮টিকে ঝুঁকিপূর্ণ ধরা হয়েছে। উখিয়ায় ৫৬টির মধ্যে ৪০টি এবং টেকনাফে ৬১টির মধ্যে ২৮টি কেন্দ্র বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। রোহিঙ্গা শিবিরসংলগ্ন এলাকা, সীমান্তবর্তী অবস্থান এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এসব কেন্দ্রে নিরাপত্তা জোরদারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ভৌগোলিক বাস্তবতা, জনসংখ্যার ঘনত্ব, অতীত অভিজ্ঞতা এবং প্রার্থীদের অবস্থান বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন সংস্থার তথ্যের আলোকে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আবদুল মান্নান বলেন, “ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোকে আলাদা গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক থাকবে।”

ক্যাটাগরি