শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৬ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আর্ন্তজাতিক

২০২৬ সালে আকাশে অপেক্ষা করছে একের পর এক বিরল মহাজাগতিক দৃশ্য

২০২৬ সালে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে ভালোবাসেন-এমন মানুষের জন্য আকাশ নিয়ে আসছে অসাধারণ সব উপহার। বিখ্যাত প্রকাশনা দ্য ওল্ড ফার্মারস অ্যালমানাক জানিয়েছে, এ বছর আকাশে দেখা যাবে একাধিক বিরল ও চোখধাঁধানো মহাজাগতিক দৃশ্য, যেগুলো খালি চোখেই উপভোগ করা যাবে।

ফেব্রুয়ারি মাসের ১৮ থেকে ২০ তারিখ সূর্যাস্তের প্রায় ৪৫ মিনিট পর চাঁদের ঠিক ওপরে বুধ গ্রহ দেখা যাবে। ২০ ফেব্রুয়ারি বুধ গ্রহ থাকবে সবচেয়ে উঁচু অবস্থানে, তখন এটি চাঁদ ও শনি গ্রহের ওপর অবস্থান করবে, যা আকাশপ্রেমীদের জন্য দারুণ এক দৃশ্য।

৩ মার্চ ভোরের আগে ঘটবে একটি বিরল পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ। এ সময় চাঁদ সম্পূর্ণভাবে পৃথিবীর ছায়ায় ঢুকে পড়বে এবং ধীরে ধীরে লালচে রঙ ধারণ করবে। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এই গ্রহণ বিশেষ গুরুত্ব বহন করে, কারণ এরপর এমন পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ আবার দেখা যাবে ২০২৯ সালে।

৯ জুন আকাশে খুব কাছাকাছি অবস্থানে দেখা যাবে শুক্র ও বৃহস্পতি গ্রহ। এই দৃশ্যকে বলা হচ্ছে ‘যমজ গ্রহের মতো দৃশ্য’। উজ্জ্বল শুক্র গ্রহের কারণে এটি সহজেই নজর কাড়বে।

১২ ও ১৩ আগস্ট আকাশে দেখা যাবে জনপ্রিয় পারসিডস উল্কাবৃষ্টি। পরিষ্কার ও অন্ধকার আকাশে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ১০০টি পর্যন্ত উল্কা দেখা যেতে পারে। একই সময় যুক্তরাষ্ট্রের কিছু এলাকায় আংশিক সূর্যগ্রহণও দেখা যাবে, তবে সূর্যগ্রহণ পর্যবেক্ষণে অবশ্যই চোখের সুরক্ষার ব্যবস্থা নিতে হবে।

২৭ ও ২৮ আগস্ট মধ্যরাতের দিকে ঘটবে আংশিক চন্দ্রগ্রহণ। এ সময় চাঁদের একটি বড় অংশ পৃথিবীর ছায়ায় ঢাকা পড়বে, যা আকাশে এক ভিন্ন রকম সৌন্দর্য তৈরি করবে।

৬ অক্টোবর ভোরের আগে চাঁদ ও বৃহস্পতি গ্রহ একসঙ্গে উদিত হতে দেখা যাবে। নতুনদের জন্যও এটি সহজে উপভোগযোগ্য একটি মহাজাগতিক দৃশ্য।

৭ নভেম্বর চাঁদ, শুক্র এবং স্পাইকা নামের একটি নীল তারা একসঙ্গে আকাশে দৃশ্যমান হবে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, স্পাইকার আলো পৃথিবীতে পৌঁছাতে সময় লেগেছে প্রায় ২৫০ বছর।

বছরের শেষ দিকে, ১৩ ও ১৪ ডিসেম্বর আবার দেখা যাবে উল্কাবৃষ্টি। অন্ধকার জায়গা থেকে পর্যবেক্ষণ করলে ঘণ্টায় প্রায় ১২০টি পর্যন্ত ধীর ও মনোমুগ্ধকর উল্কা দেখা যেতে পারে।

সব মিলিয়ে ২০২৬ সাল আকাশপ্রেমী ও প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য হতে যাচ্ছে এক স্মরণীয় ও রোমাঞ্চকর বছর।

ক্যাটাগরি