বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১লা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতীয়

ড. ইউনূসের বিদায়, নতুন ঠিকানা কোথায়?

-ফাইল ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে তারেক রহমান–এর নেতৃত্বে গঠিত হয়েছে নতুন সরকার। শপথের মধ্য দিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে নবনির্বাচিত মন্ত্রিসভা। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন।

তবে দায়িত্ব ছেড়ে দিলেও এখনো সরকারি বাসভবন ছাড়েননি ড. ইউনূস। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, তিনি সেখানে আরও কিছুদিন অবস্থান করতে পারেন। এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম NDTV জানিয়েছে, নতুন সরকার শপথ নেওয়ার প্রাক্কালে ড. ইউনূসের সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে। সামাজিক মাধ্যমে অনেকে ধারণা করছেন, সাংবিধানিক কাঠামোর ভেতরে তাকে কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা হতে পারে—এমনকি রাষ্ট্রপতি পদেও।

অন্তর্বর্তী সরকারের এক উপদেষ্টাকে নতুন মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার পর এই জল্পনা আরও জোরালো হয়। অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে লিখছেন, ড. ইউনূসই হতে পারেন দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি।

তবে অন্য একটি সূত্রের দাবি, বাংলাদেশে কয়েক সপ্তাহ অবস্থান শেষে তিনি প্যারিসে যেতে পারেন। ফলে তিনি বঙ্গভবনে যাচ্ছেন নাকি বিদেশে পাড়ি দিচ্ছেন—তা সময়ই নির্ধারণ করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এদিকে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আন্তর্জাতিকবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, ড. ইউনূসকে নিয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট সাংবিধানিক পদ চূড়ান্ত হয়নি। তার ভাষ্য, তারেক রহমান অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনব্যবস্থায় বিশ্বাসী এবং দেশের সেরা মেধাবীদের সম্পৃক্ত করতে আগ্রহী। সে পরিসরে ড. ইউনূসের সঙ্গেও আলোচনা হতে পারে, তবে কোনো নির্দিষ্ট দায়িত্ব নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি।

তিনি আরও বলেন, রাজনীতিতে কোনো কিছুই একেবারে অসম্ভব নয়। দেশের স্বার্থে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের কাজে লাগাতে আগ্রহ রয়েছে সরকারের। তবে এখন পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি বা অন্য কোনো সাংবিধানিক পদ নিয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা আসেনি।

অন্যদিকে ব্রিটিশ মানবাধিকারকর্মী ও অনুসন্ধানী সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে মত দিয়েছেন, ড. ইউনূস রাষ্ট্রপতি হলে বাংলাদেশ উপকৃত হতে পারে। তার মতে, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ড. ইউনূসের গ্রহণযোগ্যতা ও মর্যাদা উচ্চ পর্যায়ের। অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মনোযোগী এক প্রধানমন্ত্রী এবং বিশ্বপরিচিত এক রাষ্ট্রপতির সমন্বয় কার্যকর হতে পারে।

তবে বার্গম্যানের দাবি অনুযায়ী, তারেক রহমান ও ড. ইউনূসের আলোচনায় রাষ্ট্রপতির পদ প্রসঙ্গ উঠলেও বিএনপি এবং ড. ইউনূসের প্রেসসচিব উভয় পক্ষই এমন আলোচনার কথা অস্বীকার করেছে।

ড. ইউনূসের প্রেসসচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব শেষের পর অন্য কোনো সরকারি বা সাংবিধানিক পদে যাওয়ার আগ্রহ তার নেই। তিনি আগের কাজেই ফিরে যেতে চান। তার লক্ষ্য ‘শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব ও শূন্য নিট কার্বন নিঃসরণ’ ধারণা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়া এবং নতুন সামাজিক ব্যবসা উদ্যোগ ও তরুণদের সঙ্গে কাজ করা।

এ বিষয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূস নিজে এখনো প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি। ফলে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা থাকলেও তার ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে চূড়ান্ত চিত্র এখনো অস্পষ্টই রয়ে গেছে।

ক্যাটাগরি