শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৬ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আর্ন্তজাতিক

নেপালে নির্বাচন: ক্ষমতাচ্যুত অলির সঙ্গে লড়ছেন আর কারা?

নেপালে কয়েক মাস আগে জেন-জি নেতৃত্বাধীন আন্দোলনে সরকারের পতনের পর দেশের প্রথমবারের মতো জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আগামী ৫ মার্চ ২৭৫ সদস্যের সংসদ গঠনের জন্য ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে ৬৫টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করছে, তবে জেন-জির তরুণ নেতৃত্বের প্রভাব বিশেষভাবে দৃশ্যমান।

গত সেপ্টেম্বরের দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভে প্রাণ হারিয়েছেন ৭৭ জন, আহত হয়েছেন দুই হাজারের বেশি মানুষ। এই আন্দোলনের প্রভাবে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলি সরকারের পতন ঘটে। নির্বাচনে নতুন ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন প্রায় ১০ লাখ তরুণ, যারা বিশেষভাবে ফলাফলের ওপর প্রভাব ফেলতে পারেন।

নির্বাচনে ১৬৫টি আসন সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে, যেখানে সবচেয়ে বেশি ভোট পাওয়া প্রার্থী জয়ী হবেন। বাকি আসনগুলো বরাদ্দ হবে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে।

নির্বাচনের মূল ইস্যু

বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনের প্রধান ইস্যু হলো:

দুর্নীতি হ্রাস ও ভালো প্রশাসন

কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিশেষ করে যুব সমাজের মধ্যে বেকারত্ব নিয়ন্ত্রণ

অন্তর্জাতিক সম্পর্ক: ভারত ও চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ও ঋণ সম্পর্ক বজায় রাখা। নেপালের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের দুই-তৃতীয়াংশ ভারতের এবং ১৪ শতাংশ চীনের সঙ্গে হয়।

প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী

বালেন্দ্র শাহ (৩৫): মধ্যপন্থী রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি নেতা। কাঠমান্ডুর সাবেক মেয়র এবং র‍্যাপার হিসেবে পরিচিত। তরুণ ভোটারের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয়।

কে পি শর্মা অলি (৭৪): কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল (ইউএমএল) এর চারবারের প্রধানমন্ত্রী। ক্ষমতায় ফেরার চেষ্টা করছেন, তবে ছয় মাস আগে ক্ষমতাচ্যুত হওয়া তরুণ ভোটারদের মন জয় করা বড় চ্যালেঞ্জ।

গগন থাপা (৪৯): মধ্যপন্থী নেপালি কংগ্রেস নেতা।

পুষ্প কমল দহল (৭১): তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, নেপালি কমিউনিস্ট পার্টি নেতা। ২০০৬ সালে মূলধারার রাজনীতিতে আসার আগে মাওবাদী বিদ্রোহের নেতৃত্বে ছিলেন।

নির্বাচনের ফলাফল দেশে রাজনৈতিক ভারসাম্য ও তরুণ নেতৃত্বের প্রভাব নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে জেন-জি নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের তরুণ ভোটারদের মনোভাব আগামী সরকার গঠনে মূল চাবিকাঠি হতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স

ক্যাটাগরি