আরাকানে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ, বাংলাদেশ সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়ে এআরএ এর স্মারক লিপি
রাখাইনের (আরাকান) চলমান সংঘাত পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গা বেসামরিক জনগণের বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আনুষ্ঠানিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছে আরাকান রোহিঙ্গা আর্মি (এআরএ-আর্মি)। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) প্রকাশিত এক নিন্দা বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি দাবি করেছে, রাখাইনে সক্রিয় আরাকান আর্মি (এএ) রোহিঙ্গা নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ বেসামরিক জনগণকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে।
এআরএ’র কমান্ডার-ইন-চিফ মোঃ নবি হোসাইন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে জোরপূর্বক নিয়োগ, অপ্রাপ্তবয়স্কদের সামরিক কাজে বাধ্য করা, মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার, গণধর্ষণ, লুটপাট, গবাদিপশু জব্দ, নির্বিচারে আটক এবং জোরপূর্বক শ্রম আদায়ের মতো গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। সংগঠনটির দাবি, ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে পরিকল্পিতভাবে টার্গেট করা হচ্ছে, যা মৌলিক মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
বিজ্ঞপ্তিতে ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে রাখাইনের বিভিন্ন এলাকায় সংঘটিত একাধিক ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে বুচিডংয়ে অপ্রাপ্তবয়স্কসহ বহু রোহিঙ্গাকে সামরিক সেবার জন্য তালিকাভুক্ত করা, জোরপূর্বক নিয়োগের জন্য লটারির ব্যবস্থা, মংডুতে পরিত্যক্ত রোহিঙ্গা সম্পত্তি জব্দের ঘোষণা, কৃষকদের জোর করে শ্রমে নিয়োজিত করা এবং নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া জোরপূর্বক নিয়োগ এড়াতে পালানোর সময় এক কিশোরীর মৃত্যুর ঘটনাও উল্লেখ করা হয়েছে। সংগঠনটি আরও দাবি করেছে, হাজার হাজার রোহিঙ্গা বর্তমানে সশস্ত্র গোষ্ঠীর হেফাজতে আটক রয়েছেন এবং তাদের অবস্থা সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এআরএ জানায়, যোগাযোগ ও ইন্টারনেট সীমাবদ্ধতার কারণে বহু ঘটনা নথিভুক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না, ফলে প্রকৃত পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ঘৃণামূলক বক্তব্য ও বৈষম্যমূলক প্রচারণা পরিস্থিতিকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, রাখাইনে সক্রিয় সশস্ত্র পক্ষ বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে পুনরায় সহযোগিতা ও সীমান্ত বাণিজ্য চালুর আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে চলমান নির্যাতনের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে জবাবদিহিতা ও বেসামরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে এ ধরনের সম্পৃক্ততা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।
এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সরকার, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতি জরুরি আহ্বান জানিয়ে এআরএ বলেছে, আরাকানের মানবিক পরিস্থিতির প্রতি অবিলম্বে দৃষ্টি দেওয়া, অভিযোগগুলোর স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত করা এবং রোহিঙ্গা বেসামরিক জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা এখন সময়ের দাবি।
তবে এআরএ’র উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। দীর্ঘদিন ধরে চলমান রাখাইন সংঘাত ও জাতিগত উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে রোহিঙ্গা সংকট ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অন্যতম গুরুতর মানবিক ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।