ইরানের পাল্টা হামলা ‘ধারণার চেয়ে কম’, ভেবেছিলাম দ্বিগুণ হবে: ট্রাম্প
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলার মধ্যেই হামলা চালানোর পর কূটনৈতিক সমাধানে পৌঁছানো এখন আরও সহজ হয়েছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, মার্কিন হামলার পর ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়া যুক্তরাষ্ট্রের ‘ধারণার চেয়েও কম’ হয়েছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera জানিয়েছে, সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “স্পষ্টতই এখন পরিস্থিতি একদিন আগের চেয়ে অনেক সহজ, কারণ তারা (ইরান) কঠোরভাবে চাপে রয়েছে।” তার মতে, সামরিক চাপ কূটনৈতিক আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রকে আগের চেয়ে ভালো অবস্থানে নিয়ে গেছে।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র দুই দফা হামলা চালায়। বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছেন, এই পদক্ষেপ ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে। তবে ট্রাম্পের দাবি, সামরিক পদক্ষেপ ইরানকে আলোচনায় আরও নমনীয় অবস্থানে আনবে।
তিনি আরও বলেন, ইরানের পাল্টা হামলা, বিশেষ করে অঞ্চলজুড়ে ইসরায়েল ও মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাতের মাত্রা যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশার তুলনায় কম হয়েছে। “আমরা ভেবেছিলাম এটা দ্বিগুণ হবে,” মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর দেশটিতে অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব কাঠামো গঠন করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে জানানো হয়, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব পরিষদের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন।
গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অস্থায়ী এই পরিষদে প্রেসিডেন্টের পাশাপাশি বিচার বিভাগের প্রধান এবং নেতৃত্ব পরিষদ (গার্ডিয়ান কাউন্সিল)-এর একজন জ্যেষ্ঠ আলেম অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। ইরানের সংবিধানের ১১১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যু বা দায়িত্ব পালনে অক্ষমতা দেখা দিলে নতুন নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত একটি অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব পরিষদ রাষ্ট্র পরিচালনা করে।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, এই পরিষদের প্রধান দায়িত্ব হবে প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং বিশেষজ্ঞ পরিষদের মাধ্যমে নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা। তবে নতুন নেতা নির্বাচনের সময়সীমা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি।