শনিবার, ১লা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৭ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আর্ন্তজাতিক

প্রত্যাখান থেকে ইরানের ক্ষমতার শীর্ষে, কে এই লারিজানি?

ইরানের আকাশজুড়ে এখন বারুদের গন্ধ আর চরম অনিশ্চয়তার ছায়া। গতকালের সেই ভয়াবহ বিমান হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর পারস্যের এই প্রাচীন ভূমিতে যেন এক যুগের অবসান ঘটেছে। চারদিকে শোক আর বিশৃঙ্খলা দানা বাঁধছে, ঠিক তখনই তেহরানের ক্ষমতার অলিন্দ থেকে নাটকীয়ভাবে দৃশ্যপটে আবির্ভূত হয়েছেন এক ঝানু কুশলী; আলী লারিজানি।

আজ ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের পর্দায় যখন লারিজানির গম্ভীর মুখচ্ছবি ভেসে উঠল, তখনই পরিষ্কার হয়ে গেছে যে খামেনি-পরবর্তী ইরানের হাল ধরতে যাচ্ছেন এই অভিজ্ঞ রাজনীতিক। একটি ‘অস্থায়ী পরিচালনা পরিষদ’ গঠনের ঘোষণা দিয়ে তিনি যেন বিশ্বকে জানিয়ে দিলেন, ঝড়ের কবলে পড়া এই জাহাজটির নিয়ন্ত্রণ এখন তাঁরই হাতে।

লারিজানি কেবল একজন রাজনীতিক নন বরং তিনি এমন এক ব্যক্তিত্ব যিনি কট্টরপন্থার ভেতরে থেকেও বাস্তববাদের এক অদ্ভুত মিশেল ঘটিয়েছেন। এক সময় রেভোল্যুশনারি গার্ডের সদস্য হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করা এই নেতা গত কয়েক দশকে নিজেকে ইরানের শাসনব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত করেছেন।

তবে এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন। সামরিক বাহিনীর চিফ অব স্টাফ আবদুর রহিম মুসাভিও নেই, ফলে লারিজানি এখন একাই এক বিশাল শূন্যস্থান পূরণের গুরুভার কাঁধে নিয়েছেন। একদিকে রাশিয়ার সাথে নিরাপত্তা সম্পর্ক জোরদার করতে মস্কোর হিমশীতল রাজপথে তাঁর নিয়মিত যাতায়াত, অন্যদিকে ওমানের সমুদ্রতীরে বসে মার্কিন প্রতিনিধিদের সাথে পর্দার অন্তরালে পরমাণু চুক্তির জটিল অঙ্ক মেলানো; সবখানেই তিনি ছিলেন খামেনির সবচেয়ে বিশ্বস্ত তুরুপের তাস।

কিন্তু লারিজানির এই উত্থানের পথটি মোটেও কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না। গত জানুয়ারির গণবিক্ষোভ দমনে তাঁর কঠোর অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলে তাঁকে বেশ বিতর্কিত করেছে। ওয়াশিংটন যখন তাঁর ওপর নিষেধাজ্ঞার খড়্গ চাপায়, লারিজানি তখন রাজপথে আন্দোলনকারীদের ‘শহুরে আধা সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে লোহা দিয়ে লোহা কাটার নীতি গ্রহণ করেছিলেন।

অথচ এই লারিজানিকেই এক সময় ২০২১ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আজ সেই প্রত্যাখ্যাত নেতাই হয়ে উঠেছেন ইরানের ভাগ্যবিধাতা।

তেহরানের এই চরম সংকটময় মুহূর্তে লারিজানি নিজেকে এমন এক ‘পাওয়ার ব্রোকার’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, যাঁর ইশারা ছাড়া এখন ইরানে পাতাটিও নড়ছে না।

পারমাণবিক ইস্যু থেকে শুরু করে অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা; সব ক্ষেত্রেই এখন লারিজানির কৌশলী চালই নির্ধারণ করবে আগামী দিনের ইরান কোন পথে হাঁটবে।

ক্যাটাগরি