শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ৩রা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজার জেলা

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে বারুণী স্নান ও গঙ্গাপূজা অনুষ্ঠিত

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় আয়োজন বারুণী স্নান ও গঙ্গাপূজা যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। চৈত্র মাসের মধুকৃষ্ণ ত্রয়োদশী তিথিকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরের মতো এবারও হাজারো ভক্তের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে সৈকত এলাকা।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকাল থেকেই কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের কবিতা চত্বরে ভিড় জমাতে শুরু করেন পূণ্যার্থীরা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কবিতা চত্বর ছাড়াও আশপাশের সৈকত এলাকায় ভক্তদের উপস্থিতি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়।

ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, বারুণী স্নানের মাধ্যমে পাপ মোচন হয় এবং পুণ্য লাভ হয়। এই বিশ্বাস থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নারী-পুরুষ, তরুণ-প্রবীণসহ সব বয়সী সনাতন ধর্মাবলম্বীরা এই ধর্মীয় আয়োজনে অংশগ্রহণ করেন। দিনভর সমুদ্রসৈকতজুড়ে পূণ্যার্থীদের উপস্থিতিতে এক ভিন্ন আধ্যাত্মিক আবহ সৃষ্টি হয়।

পুণ্য লাভের আশায় আগত ভক্তরা সমুদ্রের জলে বারুণী স্নান করে গঙ্গাপূজা ও বিশেষ প্রার্থনায় অংশ নেন। অনেকেই পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তি কামনায় প্রার্থনা করেন বলে জানান।

বারুণী স্নান উপলক্ষে মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বলন, গীতাপাঠ, ধর্মীয় আলোচনা ও প্রার্থনাসহ নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

অদ্বৈত-অচ্যুত মিশন বাংলাদেশ কক্সবাজার জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লুৎফুর রহমান কাজল।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ এবং কোনো ধর্মই বিদ্বেষ বা বিভেদ ছড়ানোর শিক্ষা দেয় না। সব ধর্মেই মানবতা, সহমর্মিতা ও শান্তির বাণী রয়েছে। কিছু স্বার্থান্বেষী মহল সমাজে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করলেও তা প্রতিহত করতে সকলকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, নতুন বাংলাদেশ গড়তে সব ধর্মের মানুষের পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও জোরদার করতে হবে।

ক্যাটাগরি