ট্রাম্পকে ইসরায়েলের বার্তা, দুই শীর্ষ নেতার ‘মৃত্যু’তে তেহরানের রহস্যময় নীরবতা
ইরানের শীর্ষ সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের ওপর ভয়াবহ হামলার পর এবার সরাসরি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানের ‘সন্ত্রাস ও দমনমূলক’ শাসনব্যবস্থার নেতৃত্ব নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনীর এই ‘শিকার’ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
গত রাতের অভিযানে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান আলী লারিজানি এবং আধা সামরিক বাহিনী বাসিজের প্রধান গোলামরেজা সোলাইমানিকে হত্যার দাবি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি এই মন্তব্য করেন।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাটজ জানান, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তিনি নিজে আইডিএফকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন ইরানের শাসনকাঠামোর প্রতিটি স্তরে এই অভিযান চালানো হয়। মজার ছলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি পুরোনো মন্তব্যের সূত্র টেনে কাটজ বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একসময় ইরানের নেতৃত্বের দ্রুত পরিবর্তনের (টার্নওভার) হার নিয়ে কথা বলেছিলেন। আমরা তাকে জানাতে চাই যে, এই পরিবর্তনের হার কেবল অব্যাহতই নেই, বরং দুই শীর্ষ নেতার হত্যাকাণ্ডের পর তা আরও বহুগুণ বেড়ে গেছে।
অভিযানে অংশ নেওয়া ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর পাইলট এবং গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সাহসিকতার প্রশংসা করে কাটজ একে এক বিশাল কৌশলগত বিজয় হিসেবে অভিহিত করেছেন।
যদিও ইসরায়েল লারিজানি ও সোলাইমানির মৃত্যুর বিষয়ে শতভাগ নিশ্চিত দাবি করছে, তবে ইরান এখন পর্যন্ত তাদের এই দুই হেভিওয়েট নেতার ভাগ্যে কী ঘটেছে সে সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করেনি। তেহরানের নীরবতা এই ইস্যুতে রহস্য আরও ঘনীভূত করছে।
পারস্যের ঐতিহ্যবাহী অগ্নি উৎসব ‘চাহারশানবে সুরি’র রাতে এক ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতির সাক্ষী হলো ইরান। একদিকে যুদ্ধের আবহে উৎসবে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করে রাজপথে সাধারণ মানুষের জমায়েত রুখতে মরিয়া প্রশাসন, অন্যদিকে তেহরানসহ একাধিক শহরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় লন্ডভন্ড হয়েছে সামরিক স্থাপনাগুলো। এই উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যেই ইসরায়েল দাবি করেছে, তারা ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি এবং বাসিজ প্রধান গোলামরেজা সোলাইমানিকে লক্ষ্যবস্তু করে সফল অভিযান চালিয়েছে। উৎসবের আনন্দ ছাপিয়ে এখন পুরো দেশজুড়ে বিরাজ করছে এক গুমোট আতঙ্ক, যেখানে ধোঁয়ার কুণ্ডলী আর বারুদের গন্ধে মিশে গেছে শীর্ষ নেতৃত্বের নিখোঁজ হওয়ার সংবাদ।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ দম্ভভরে এই দুই হেভিওয়েট নেতার মৃত্যুর ইঙ্গিত দিয়ে অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেওয়ায় তেহরানের অন্দরে উৎকণ্ঠা এখন চরমে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের পুরোনো বক্তব্যের সূত্র টেনে ইরানি নেতৃত্বে ‘দ্রুত পরিবর্তনের’ যে বার্তা কাটজ দিয়েছেন, তা অঞ্চলটিতে এক নতুন মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের সূচনা করেছে।
যদিও তেহরান এখন পর্যন্ত লারিজানি ও সোলাইমানির পরিণতি নিয়ে রহস্যময় নীরবতা পালন করছে, তবে এই নীরবতা সাধারণ ইরানিদের মনে সন্দেহের দানা আরও মজবুত করছে। একদিকে অভ্যন্তরীণ দমনের ভয় আর অন্যদিকে বিদেশি শত্রুর নিঁখুত নিশানায় শীর্ষ নেতাদের হারিয়ে ফেলার শঙ্কা—সব মিলিয়ে ইরান এখন এক চরম অনিশ্চিত সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে।
সূত্র: বিবিসি