মঙ্গলবার, ২৮শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৩ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজার জেলা

ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, উৎসবমুখর সৈকত

ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটিতে কক্সবাজারে লাখো পর্যটকের আগমন ঘটেছে। এতে দেশের একমাত্র সমুদ্র সৈকতজুড়ে তৈরি হয়েছে প্রাণচঞ্চল ও উৎসবমুখর পরিবেশ।

রবিবার সকাল থেকেই সৈকতের কলাতলী, সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্টসহ প্রধান পর্যটন এলাকাগুলোতে ছিল উপচে পড়া ভিড়। ৭ দিনের ঈদ ছুটি হওয়ায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পরিবার-পরিজন ও বন্ধু-বান্ধব নিয়ে পর্যটকরা ছুটে এসেছেন কক্সবাজারে। বালুকাবেলায় আনন্দ-উল্লাসে মেতে উঠেছেন তারা।

রংপুর থেকে আসা পর্যটক ফরহাদ বলেন, কক্সবাজারের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সবসময়ই আমাকে মুগ্ধ করে। তাই ঈদ কাটাতে এখানে এসেছি। আরও কয়েকদিন থাকব, খুব ভালো লাগছে।

পর্যটকদের আগমনে চাঙ্গা হয়ে উঠেছে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য। বিশেষ করে বার্মিজ মার্কেটসহ বিভিন্ন স্থানের শুঁটকি ব্যবসায়ীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। শুঁটকি বিক্রেতা আয়াত জানান, রমজানে ব্যবসা প্রায় বন্ধ ছিল। তবে এখন পর্যটক বাড়ায় বিক্রি ভালো হচ্ছে, সামনে আরও বাড়বে আশা করছি।

হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টগুলোতেও দেখা গেছে পর্যটকের উপচে পড়া ভিড়। প্রায় ৫ শতাধিক আবাসিক প্রতিষ্ঠানের কোনো রুম খালি নেই। অনেক হোটেল ইতোমধ্যে ৩০ মার্চ পর্যন্ত অগ্রিম বুকিং পেয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন হোটেল মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার।

তিনি বলেন, পর্যটকদের চাপ অনেক বেড়েছে। আমরা নির্দেশনা দিয়েছি যাতে কেউ হয়রানির শিকার না হন এবং সঠিক মূল্যে সেবা পান।

নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন, ট্যুরিস্ট পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে। ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের উপ-পরিদর্শক সুজন চক্রবর্তী জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব পর্যটন এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

অন্যদিকে, সমুদ্রস্নানে নিরাপত্তা দিতে হিমশিম খাচ্ছে লাইফগার্ডরা। সী সেফ লাইফ গার্ড সংস্থার প্রজেক্ট কর্মকর্তা মো. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, দেড় মাসের পর্যটক খরা কাটিয়ে এখন লাখের বেশি পর্যটক সমুদ্রস্নান করছেন। কিন্তু নিরাপত্তায় নিয়োজিত কর্মী মাত্র ২৭ জন, তারপরও আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।

জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান বলেন, পর্যটকরা আমাদের অতিথি। তাদের নিরাপত্তা ও সেবা নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ক্যাটাগরি