চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামে অবৈধভাবে মজুত ২৫ হাজার লিটার ডিজেল জব্দ

চট্টগ্রামে অবৈধভাবে মজুত করে রাখা ২৫ হাজার লিটার ডিজেল জব্দ করেছে জেলা প্রশাসন। সোমবার (৩০ মার্চ) বিকালে সীতাকুন্ড উপজেলার সলিমপুর সিডিএ গেট এলাকা থেকে এসব জ্বালানি তেল জব্দ করা হয়। ট্রাকের তিনটি ভাউচারে তেল মজুত করে রাখা ছিল বলে জানান জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও সীতাকুন্ড উপজেলা প্রশাসনের গোয়েন্দা তথ্যে এসব মজুত করা তেলের সন্ধান পাওয়া যায়। তবে ঘটনাস্থল থেকে কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

এদিকে চট্টগ্রামে একটি ফিলিং স্টেশনে তেলের অবৈধ মজুত রাখায় এক লাখ টাকা জরিমানা করেছেন জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, সোমবার বিপুল পরিমাণ অবৈধ ডিজেল মজুতের তথ্য পায় সীতাকুন্ড উপজেলা প্রশাসন। এরপরই পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এলাকাটি ঘিরে রাখেন।

বিষয়টি চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞাকে জানানো হয়। পরে ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানান, চট্টগ্রামে জ্বালানি তেলের সংকট নেই। সংকটের কথা ছড়িয়ে একটি মহল সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। অনেকেই এতে শঙ্কিত হয়ে তেলের মজুত করছেন, কেউ কেউ মজুত করা তেল চড়া দামে বিক্রি করছেন। সলিমপুরের জব্দ ডিজেলও সেই লক্ষ্যেই মজুত করা হয়েছে। কারা এ মজুতের সঙ্গে জড়িত তা খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হবে।

তিনি আরও বলেন, অবৈধভাবে তেল মজুতের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান আছে এবং এ পর্যন্ত তেল মজুত ও জব্দের ঘটনার ৯৭টি মামলা হয়েছে। সেই সঙ্গে জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

সীতাকুন্ড উপজেলার নির্বাহী অফিসার ফখরুল ইসলাম যুগান্তরকে জানান, জব্দ করা ২৫ হাজার লিটার জ্বালানির সবগুলোই ডিজেল।

এদিকে নগরীতে জ্বালানি তেল থাকা সত্ত্বেও বিক্রি না করার দায়ে একটি ফিলিং স্টেশনকে মোট এক লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

সোমবার দুপুরে বন্দর এলাকার মেসার্স আনোয়ারা জাকারিয়া ফিলিং স্টেশনকে এ জরিমানা করা হয়।  অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আমিরুল মোস্তফা।

কর্মকর্তারা জানান, নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম তেল সরবরাহ এবং মজুত থাকা সত্ত্বেও বিক্রি বন্ধ রেখে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগে জরিমানা করা হয়েছে। ফিলিং স্টেশনটির ডিজেল ডিসপেন্সিং ইউনিটে নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম তেল পাওয়া যায়। এ অপরাধে আমলে নিয়ে ৪৬ ধারা অনুসারে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

স্টেশনটিতে পর্যাপ্ত তেলের মজুত থাকা সত্ত্বেও বিক্রি বন্ধ রেখে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হচ্ছিল। এ অভিযোগে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী আরও ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

ক্যাটাগরি