শনিবার, ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ৪ঠা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজার জেলা

কক্সবাজারে হামের ভয়াবহতা বাড়ছে: ৪ শিশুর মৃত্যু

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":[],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"curves":1},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}

কক্সবাজার জেলায় হামের প্রাদুর্ভাব নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় জেলায় হামে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে চারজনে। এতে জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়ছে।

বৃহস্পতিবার ভোর ও সন্ধ্যায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে স্থাপিত বিশেষ হাম ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই শিশুর মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে রামুর দক্ষিণ মিঠাছড়ি এলাকার আজিজুল হকের সাত মাস বয়সী মেয়ে রৌশনী এবং মহেশখালীর ছোট মহেশখালী এলাকার নাসিরের নয় মাস বয়সী মেয়ে জেসিন রয়েছে।

এর আগে একই উপজেলার সাত মাস বয়সী হিরা মনি নামের আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়। এছাড়া আরও একটি শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে, যদিও তার পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে মোট চার শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিহত রৌশনীর মা মরিয়ম বেগম জানান, জমজ দুই সন্তানের মধ্যে এক সন্তানের হঠাৎ জ্বর ও সর্দি দেখা দিলে প্রথমে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঈদের পরদিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক সন্তানের মৃত্যু হয়, অন্য সন্তানটিও অসুস্থ রয়েছে।

চিকিৎসকরা জানান, অনেক ক্ষেত্রে দেরিতে হাসপাতালে আসার কারণে আক্রান্ত শিশুদের জটিলতা বাড়ছে।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. শহিদুল আলম বলেন, প্রতিদিন নতুন রোগী ভর্তি হওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। হাম রোগীদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড ও বিশেষ নার্সিং ব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়া হলেও রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

বর্তমানে সদর হাসপাতালের হাম ইউনিটে ৪২ জন শিশু ভর্তি রয়েছে। এছাড়া কক্সবাজার জেনারেল হাসপাতালে আরও ৫ জন শিশুকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে দুই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৭ জনে।

মহেশখালী, হোয়াইক্যং, রামুর মিঠাছড়ি, শহরের কালুরদোকান, পাহাড়তলি ও রুমালিয়ারছড়া এলাকায় আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে বলে জানা গেছে।

জেলার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মহিউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, হাম প্রতিরোধে সময়মতো টিকাদানই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সে দুই ডোজ টিকা নিশ্চিত করা গেলে এ রোগের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

ক্যাটাগরি