২০২৬ সালের মধ্যে হাম নিয়ন্ত্রণে আনার ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর, কক্সবাজারে টিকাদান কর্মসূচি উদ্বোধন
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, সরকার ২০২৬ সালের মধ্যে হামের প্রাদুর্ভাব সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এনে শিশুমৃত্যু শূন্যে নামিয়ে আনতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
রোববার (৫ এপ্রিল) বেলা ১১টায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ঢাকা থেকে ভার্চুয়ালি হাম-রুবেলা প্রতিরোধে জরুরি টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, হাম-রুবেলা প্রতিরোধে টিকাদান কার্যক্রম সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে, যাতে রোগটি আর বিস্তার লাভ করতে না পারে। তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে দেশের ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় এই কর্মসূচি শুরু হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে তা সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, অতীতে যথাযথ নজরদারি ও প্রচারণার অভাবে হাম-রুবেলা প্রতিরোধে ঘাটতি ছিল, যা বর্তমান সরকার গুরুত্বের সঙ্গে মোকাবিলা করছে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজারের দুটি উপজেলায় প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার শিশুকে এই টিকার আওতায় আনা হবে।
এদিকে জেলায় হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২৫ জন শিশু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে ৪২ জন শিশু এবং বিভিন্ন হাসপাতালে মোট চিকিৎসাধীন শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৫ জনে।
গত ২৪ ঘণ্টায় রামু উপজেলার রাজিয়া নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় হামে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ জনে।
স্বাস্থ্য বিভাগ আরও জানায়, গত এক সপ্তাহে জেলায় আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ১৩২ জন এবং চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১৮৫ জন।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি আক্রান্ত এলাকায় জরিপ, ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল বিতরণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সময়মতো টিকা গ্রহণই হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। এজন্য অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।