রোহিঙ্গাদের জন্য এলপিজি জ্বালানিতে ১ কোটি ডলার সহায়তা দিচ্ছে কানাডা
বাংলাদেশের কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর জন্য পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও টেকসই রান্নার জ্বালানি নিশ্চিত করতে ১ কোটি কানাডিয়ান ডলার অনুদানের ঘোষণা দিয়েছে কানাডা।
এই অর্থায়ন UNHCR (জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা) এবং IOM (আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা)-এর মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে। এর আওতায় রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য এলপিজি (Liquefied Petroleum Gas) সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে, যা রান্নার জন্য অত্যাবশ্যক এবং একই সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং বলেন, কানাডা দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় একটি নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে কাজ করে আসছে। এই জলবায়ু-সচেতন সহায়তা বন উজাড় ও কার্বন নিঃসরণ কমাতে সহায়ক হবে এবং নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।
কক্সবাজার, যা বাংলাদেশের অন্যতম জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল, নিয়মিত বন্যা, ভূমিধস, ঘূর্ণিঝড় ও অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিতে রয়েছে। এলপিজি ব্যবহারের ফলে শরণার্থী পরিবারগুলোর জ্বালানি কাঠের ব্যবহার প্রায় ৮০ শতাংশ কমেছে এবং বছরে প্রায় ৪ লাখ ৭ হাজার টন কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃসরণ হ্রাস পাচ্ছে।
বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআর-এর ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ জুলিয়েট মুরেকিইসোনি বলেন, দীর্ঘ নয় বছর ধরে রোহিঙ্গারা কঠিন বাস্তুচ্যুত অবস্থার মধ্যে রয়েছে। এমন সময়ে কানাডার এই সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং শরণার্থীদের মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অপরিহার্য।
এছাড়া, বাংলাদেশে আইওএম-এর চিফ অব মিশন (অন্তর্বর্তীকালীন) জ্যাসেরে লোটি বলেন, নিরাপদ জ্বালানি শরণার্থী পরিবারগুলোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সহায়তার মাধ্যমে তারা ঝুঁকিপূর্ণ জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ থেকে বিরত থাকতে পারবে এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করতে পারবে।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সাল থেকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এলপিজি সরবরাহ কার্যক্রম চালু রয়েছে। এই নতুন অনুদানের মাধ্যমে প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার ৫০০ শরণার্থী পরিবার উপকৃত হবে। পাশাপাশি কক্সবাজারের প্রায় ১০ হাজার ৭০০ হেক্টর সংরক্ষিত বন রক্ষা, ভূমিধসের ঝুঁকি হ্রাস এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।