বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৫ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজার জেলা

সমুদ্রপথে মানবপাচার বেড়েছে, কক্সবাজার উপকূল ‘ঝুঁকিপূর্ণ রুট’: প্রতিরোধে অঙ্গীকারবদ্ধ কক্সবাজারের সাংবাদিকেরা

কক্সবাজার উপকূল দিন দিন সমুদ্রপথে মানবপাচারের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ও সক্রিয় রুটে পরিণত হচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সাংবাদিকরা। বিশেষ করে আন্দামান সাগর হয়ে মালয়েশিয়াসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে পাচারের ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে, যেখানে অনেকেই প্রাণ হারাচ্ছেন।

সোমবার (২০ এপ্রিল) কক্সবাজার শহরের হর্টিকালচার মিলনায়তনে আয়োজিত এক দক্ষতা উন্নয়ন কর্মশালায় জেলার সাংবাদিকরা এসব উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, যথাযথ প্রস্তুতি, নজরদারি বৃদ্ধি এবং জনসচেতনতা জোরদার করা গেলে কক্সবাজার উপকূল দিয়ে মানবপাচার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

অস্ট্রেলিয়া সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত ‘ম্যাস ক্যাম্পেইন টু কমব্যাট হিউম্যান ট্রাফিকিং অ্যান্ড পিপল স্মাগলিং’ প্রকল্পের আওতায় ব্র্যাক-এর মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম এ কর্মশালার আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে কক্সবাজার প্রেসক্লাব-এর সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, মানবপাচার একটি সংঘবদ্ধ অপরাধ, যা শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, রাষ্ট্রের ভাবমূর্তিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। এই অপরাধ দমনে সাংবাদিকদের অনুসন্ধানী ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন বাহারি বলেন, অভিবাসন ও মানবপাচারের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে প্রতিবেদন করতে হলে সংবেদনশীলতা ও দায়িত্বশীলতা প্রয়োজন। তিনি সাংবাদিকদের তথ্য যাচাই করে গভীরে গিয়ে পাচারকারীদের নেটওয়ার্ক উন্মোচনের আহ্বান জানান।

কর্মশালায় বক্তব্য দেন দৈনিক প্রথম আলো-এর কক্সবাজার প্রতিনিধি আবদুল কুদ্দুস রানা। তিনি বলেন, মানবপাচার সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশে তথ্য যাচাই অত্যন্ত জরুরি এবং বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে গভীর অনুসন্ধান প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান। তিনি বলেন, দালালচক্রের প্রলোভনে পড়ে অনেক মানুষ অনিয়মিতভাবে সমুদ্রপথে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করছেন, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে আন্দামান সাগর পাড়ি দিতে গিয়ে বহু মানুষ নিখোঁজ বা নিহত হচ্ছেন।

কর্মশালায় মোট ৫৩ জন জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী অংশ নেন। তারা মানবপাচার প্রতিরোধে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করেন।

এছাড়া অনুষ্ঠানে পাচারের শিকার কয়েকজন যুবক নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জানান, কীভাবে দালালচক্রের প্রতারণায় পড়ে তারা জীবনঝুঁকিতে পড়েছিলেন।

সাংবাদিকরা মনে করছেন, গণমাধ্যমে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে মানবপাচার প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব।

ক্যাটাগরি