‘ভাতিজাদের বাঁচাতে মরিয়া’ কথিত ভূমিদাতা আবুল হোসেন
কক্সবাজারের খুরুশকুলে আলোচিত সেবায়েত নয়ন সাধু হত্যাকাণ্ড ঘিরে নতুন করে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের আড়াল করতে কথিত পাহাড়ি জমির ভূমিদাতা আবুল হোসেন উঠে-পড়ে লেগেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ১৯ এপ্রিল খুরুশকুলের গহীন পাহাড়ে অবস্থিত শিব-কালী মন্দির থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় সেবায়েত নয়ন সাধুকে। পরে ২২ এপ্রিল ওই পাহাড়ের পাশেই ঝুলন্ত অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
ঘটনার পর থেকেই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে অনুসন্ধানে নামে প্রতিবেদক। অনুসন্ধানে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসতে থাকে। কেন নয়ন সাধুকে হত্যা করা হয়েছে এবং কারা এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত তা নিয়েও বিভিন্ন তথ্য উঠে আসে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। এমন প্রতিবেদন প্রকাশের পর ক্ষোভ প্রকাশ করেন পাহাড়ি জমির দাবিদার ও কথিত ভূমিদাতা আবুল হোসেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করতে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৭ মে আবুল হোসেন ও তার ভাতিজাদের স্ত্রীরা সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিজেদের নির্দোষ দাবি করা হয়। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে একের পর এক মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করে প্রকৃত ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, ঘটনার রাতে পাহাড়ে কয়েকজন সন্দেহভাজনের অবস্থানের তথ্য পাওয়া গেছে। এমনকি ঘটনার পর রাতেই আবুল হোসেনের কয়েক ভাতিজা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যায় বলেও জানা গেছে। এছাড়া ওই রাতে এক পথচারী তাদের দেখে ফেলায় তার ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হলে নয়ন সাধু হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন সম্ভব হবে।