সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ৩০শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতীয়

জাতীয় সংকটে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর তার দায়িত্ব পালন এবং সাংবিধানিক ভূমিকার প্রশংসা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রপতির পদকে কোনো ব্যক্তির পদ হিসেবে নয়, বরং রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করে সরকার।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর প্রতিক্রিয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “আমরা দেখেছি, তিনি যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে তার দায়িত্ব পালন করেছেন এবং অন্তর্বর্তী সরকারকে পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৫ থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত জাতীয় সংকটের সময় রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। রাষ্ট্রকে সাংবিধানিক ও আইনি ধারায় রাখার ক্ষেত্রে সেই সময়কার তার ভূমিকা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।”

তিনি বলেন, বিএনপি রাষ্ট্রপতির পদকে কোনো ব্যক্তির পরিচয়ের মাধ্যমে নয়, বরং রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবেই বিবেচনা করে এসেছে।

তবে সাবেক রাষ্ট্রপতির অতীত ভূমিকা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিনি যেহেতু স্বৈরাচারী সরকারের আমলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি ছিলেন, তাই সেই সময়কার কিছু কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনা থাকাটা স্বাভাবিক।

তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে রাষ্ট্রপতিকে সব সময় যথাযথভাবে ও পূর্ণ মর্যাদার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়া হয়নি বলেও বাস্তবতা রয়েছে।

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির স্বাস্থ্যগত বা অন্য যেকোনো যুক্তিসংগত ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগ করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। তিনি সাংবিধানিক বিধান অনুসরণ করে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।

মন্ত্রী জানান, এখন নিয়ম অনুযায়ী পদত্যাগপত্র সরকারি গেজেটে প্রকাশ করা হবে। এরপর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

তিনি আরও বলেন, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ সময় পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

সবশেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ থেকে শুরু করে পরবর্তী সব প্রক্রিয়াই সংবিধান ও বিদ্যমান আইনি বিধান অনুসরণ করেই সম্পন্ন হচ্ছে। এখন নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার অপেক্ষা।

ক্যাটাগরি