সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ৩০শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতীয়

সেপ্টেম্বরের অধিবেশনে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবে: আইনমন্ত্রী

আগামী সেপ্টেম্বরের জাতীয় সংসদ অধিবেশনেই দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। এ জন্য পৃথক কোনো বিশেষ অধিবেশন ডাকার প্রয়োজন হবে না বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে আইনমন্ত্রী বলেন, এ মুহূর্তে এ বিষয়ে মন্তব্য করা সমীচীন হবে না।

চট্টগ্রামে জুলাই গণআন্দোলনে আহত আটজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যদি তদন্তে প্রমাণিত হয় যে এসব মামলা মিথ্যা, তাহলে সেগুলো দ্রুত প্রত্যাহার করা হবে।

সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে আইনমন্ত্রী দাবি করেন, বর্তমানে দেশে সীমান্তে বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা ‘এক্সট্রা কিলিং’-এর ঘটনা প্রায় শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে।

অপরাধ দমনে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি যত বড় রাজনৈতিক নেতাই হোন না কেন, ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা কোনো মামলা প্রত্যাহার করা হবে না।

উল্লেখ্য, মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার সাংবিধানিক মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা থাকলেও শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করেন।

সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

সংবিধানের বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

মো. সাহাবুদ্দিনের দায়িত্বকাল ছিল দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। তার মেয়াদকালেই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন, অন্তর্বর্তী সরকারের গঠন এবং পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় তিনি তিনটি ভিন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তিনজন পৃথক সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করান, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি বিরল ঘটনা।

ক্যাটাগরি