উখিয়ার সাব-রেজিস্ট্রির ঘুষ সিন্ডিকেট: দুদকের অভিযানের পরও বহাল সাব-রেজিস্ট্রার!
কক্সবাজারের উখিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে জমি নিবন্ধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সেবায় দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, ঘুষ এবং দুর্নীতির অভিযোগ “ওপেন সিক্রেট” হিসেবে চলমান। কিন্তু বছর ঘুরে গেলেও দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অফিসটি সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় থাকলেও সাধারণ সেবাপ্রার্থীদের জন্য প্রবেশ কঠিন। অফিসে ‘বিনা অনুমতিতে প্রবেশ নিষেধ’ সাইনবোর্ডের আড়ালে কার্যত দালাল-নির্ভর ব্যবস্থা চলে। অনেক ভুক্তভোগী জানাচ্ছেন, ফাইল শুধু দালালদের মাধ্যমে এগোয় এবং ঘুষ ছাড়া কাজ হয় না।
স্থানীয় দলিল লেখকরা বলেন, অফিস সহকারী বেবী রাণী দে, মোহরার সৃদুল দাশ এবং রবিউল্লাহ রবি কেন্দ্র করে একটি শক্ত সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, যা অফিসের প্রতিটি ধাপ নিয়ন্ত্রণ করে। জমির ঘোষিত মূল্যের প্রায় ০.৫ শতাংশ অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, এক কোটি টাকার জমি নিবন্ধনে প্রায় ৫০ হাজার টাকা অতিরিক্ত দিতে হয়, যা সরাসরি নেওয়া হয় না—ফাইল লেখকদের মাধ্যমে আড়ালে আদায় করা হয়।
দুদকের অভিযান, আনুষ্ঠানিকতা নাকি কার্যকরী পদক্ষেপ :
গত বছরের ১৬ এপ্রিল, দুদকের জেলা কার্যালয়ের এনফোর্সমেন্ট টিম অফিসে অভিযান চালায়। অভিযানকালে অতিরিক্ত ফি আদায়, সেবা দিতে গড়িমসি এবং অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়। কিন্তু অভিযানের দিনই সাব-রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ মোরশেদ আলম পূর্বনির্ধারিতভাবে অফিসে উপস্থিত ছিলেন এবং অফিসের ভেতরের নগদ ৩ লাখ ৫ হাজার টাকা দ্রুত সরিয়ে ফেলা হয়।
দুদকের উপ-পরিচালক গোলসান আনোয়ার জানিয়েছেন, ছদ্মবেশে অভিযান চালিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। উপস্থিত সেবা গ্রহীতাদের জিজ্ঞাসাবাদে হয়রানি ও অনৈতিক অর্থ আদায়ের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
তবুও, অভিযানের এক বছর পার হলেও কোনো কর্মকর্তা শাস্তি পাননি। দীর্ঘদিন একই পদে থাকা সাব-রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ মোরশেদ আলম এখনও বহাল। স্থানীয়দের প্রশ্ন, অভিযোগের সত্যতা না থাকলে দুদক কেন অভিযান চালালো? আর যদি সত্যি থাকে, তাহলে কেন প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেই?
স্থানীয় ব্যবসায়ী নুরুল আমিন বলেন, “সরকার বদলেছে, কিন্তু মাঠপর্যায়ের অনিয়ম অপরিবর্তিত। এখনই ব্যবস্থা না নিলে জনগণের আস্থা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
সাব-রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ মোরশেদ আলম জানান, “অফিসে প্রবেশে কোনো বাধা নেই। সবকিছু সিসিটিভির আওতায়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উখিয়ার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের ঘুষ ও অনিয়মের সিন্ডিকেট শুধু এক অফিসের সমস্যা নয়; এটি প্রশাসনিক তদারকির শিথিলতা ও শাসক ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি ব্যর্থতার পরিচায়ক।