রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সশস্ত্র সংগঠনের গোলাগুলি, সতর্ক থাকতে মাইকিং
কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সশস্ত্র সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে ক্যাম্পজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ রোহিঙ্গাদের সতর্ক করতে মাইকিং করা হয়।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে উখিয়ার হাকিমপাড়া ও জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এ ঘটনা ঘটে।
জামতলী ক্যাম্পের বাসিন্দা রহমত উল্লাহ বলেন, রাতে হঠাৎ সশস্ত্র সংগঠনের সদস্যরা গুলি ছোড়ার শব্দে ক্যাম্পে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে সাধারণ রোহিঙ্গাদের সচেতন ও সতর্ক করতে মাইকিং করা হয়।
তিনি দাবি করেন, রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও) সদস্যরা গুলি ছুড়েছেন। ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আরএসও ও আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা)-এর মধ্যে প্রায়ই সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে বলেও দাবি করেন তিনি।
আরেক বাসিন্দা মোহাম্মদ আজিজ বলেন, গোলাগুলির শব্দ শুনে মাইকিং করে সবাইকে সতর্ক করা হয়। তাদের ঘরের দরজার সামনে সতর্ক অবস্থায় থাকার জন্যও বলা হয়।
রোহিঙ্গা বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম বলেন, মাইকে হাকিমপাড়া ক্যাম্প-১৪ থেকে জামতলী ক্যাম্প-১৫ এলাকায় ব্যাপক গুলিবর্ষণের কথা জানানো হয়। সাধারণ রোহিঙ্গাদের ঘরেও গুলি পড়ছে বলে মাইকিংয়ে সতর্ক করা হয়।
এ বিষয়ে ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অতিরিক্ত ডিআইজি রিয়াজ উদ্দিন বলেন, কয়েক দিন ধরেই এ ধরনের ঘটনা চলছিল। হাকিমপাড়া ক্যাম্প-১৪ আরএসও অধ্যুষিত এবং পাশের জামতলী ক্যাম্প-১৫ আরসা অধ্যুষিত। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আরএসও সদস্যরা জামতলী ক্যাম্পে হামলার চেষ্টা ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, দুই পক্ষের সদস্যদের আটকের চেষ্টা চলছে। এসব সংগঠনের সদস্যদের কাছে ভারী অস্ত্র রয়েছে বলেও তথ্য পাওয়া গেছে। এর আগেও হাকিমপাড়া ও জামতলী ক্যাম্পে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
গোলাগুলির ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।