উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে পিস্তল-গুলিসহ আরসা সদস্য গ্রেপ্তার
কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অভিযান চালিয়ে বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও তাজা গুলিসহ সশস্ত্র সংগঠন আরসার এক সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১৫।
শনিবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উখিয়ার ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মরাগাছতলা এলাকায় বিশেষ চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালায় র্যাব। এ সময় সন্দেহভাজন হিসেবে মোহাম্মদ জহির (১৯)-কে আটক করা হয়। পরে তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও চার রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার জহির উখিয়ার ময়নারঘোনা ১২ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা। সে ওই ক্যাম্পের রশিদ আহম্মদের ছেলে।
র্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জহির নিজেকে আরসার সক্রিয় সদস্য হিসেবে স্বীকার করেছে। র্যাবের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সে ক্যাম্পের অভ্যন্তরে অস্ত্র বহনসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল।
ক্যাম্পের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অস্ত্রসহ একজন সশস্ত্র সংগঠনের সদস্য গ্রেপ্তারের ঘটনা ক্যাম্পের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আবারও প্রশ্ন সামনে এনেছে। বিপুলসংখ্যক মানুষের বসবাসের কারণে ক্যাম্পগুলোতে অস্ত্রের অবাধ চলাচল ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ।
বিশেষ করে তরুণদের একটি অংশ সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়া, অস্ত্র বহন ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ ক্যাম্পের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও জটিল করে তুলছে। ফলে শুধু অস্ত্র উদ্ধার ও গ্রেপ্তার নয়, অস্ত্রের উৎস, সরবরাহকারী এবং সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্ক শনাক্ত করাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
র্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তার জহিরের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করে তাকে উখিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তার সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না এবং উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের উৎস সম্পর্কে তদন্তের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।