চার আসনের তিনটিতেই শক্ত অবস্থানে বিএনপি
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজারের চারটি আসনের মধ্যে তিনটিতেই বিএনপি শক্ত অবস্থানে রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। কক্সবাজার-১, কক্সবাজার-৩ ও কক্সবাজার-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থীরা স্পষ্টভাবে এগিয়ে থাকলেও কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনে বিএনপি ও জামায়াতের হেভিওয়েট প্রার্থীদের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এই আসনে তিনি ও তাঁর স্ত্রী মিলিয়ে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর বিপরীতে জামায়াতের প্রার্থী শহর জামায়াতের আমির আবদুল্লাহ আল ফারুক, যিনি নির্বাচনী রাজনীতিতে নবীন। স্থানীয় ভোটারদের বড় অংশের মতে, অভিজ্ঞতা ও জনপ্রিয়তায় সালাহউদ্দিন আহমদ এখানে স্পষ্টভাবে এগিয়ে আছেন।
কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক দুইবারের সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ফরিদ এবং জামায়াতের প্রার্থী কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ। গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প ও কৌশলগত অবস্থানের কারণে এই আসনটি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। অতীতে বিএনপি এখানে বেশি সফল হলেও এবার দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর কারণে প্রতিদ্বন্দ্বিতা সমানতালে চলছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু-ঈদগাঁও) আসনে বিএনপির প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল। তাঁর বিপরীতে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা থাকলেও স্থানীয় ভোটারদের ধারণা, এটি বিএনপির ঘাঁটি হিসেবেই পরিচিত এবং এখানে বিএনপি বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকবে।
কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনে বিএনপির প্রার্থী জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক হুইপ শাহজাহান চৌধুরী। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের জেলা আমির অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারী। প্রার্থী মনোনয়ন ঘিরে শুরুতে দলীয় অসন্তোষ থাকলেও পরে তা কেটে গেছে এবং বর্তমানে অভিজ্ঞতার কারণে শাহজাহান চৌধুরী এগিয়ে রয়েছেন বলে মনে করছেন ভোটাররা।
সামগ্রিকভাবে কক্সবাজারের চার আসনের মধ্যে তিনটিতে বিএনপির সহজ জয় এবং কক্সবাজার-২ আসনে জমজমাট প্রতিদ্বন্দ্বিতার দিকেই এগোচ্ছে নির্বাচনী মাঠ-এমনটাই ধারণা স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের।