চকরিয়ার হারবাংয়ে মামলা উপেক্ষা করে বাড়িভিটার জমি দখলের অভিযোগ, হুমকি- অভিযোগ দায়ের
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নে বাড়িভিটার জমি জবরদখল, জাল দলিল সৃষ্টি, গভীর নলকূপ স্থাপন এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা ও লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগী মোহাম্মদ মনছুরুল ইসলাম চৌধুরী (অবসরপ্রাপ্ত ওয়ারেন্ট অফিসার, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী) জানান, ২০২২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি তিনি ও তাঁর তিন ভাই হারবাং মৌজার ০.৭২ একর বসতভিটার জমি বৈধভাবে ক্রয় করেন এবং তখন থেকে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছেন। জমির খাজনা পরিশোধ ও নামজারি সম্পন্ন রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
তবে অভিযোগ ওঠে, অভিযুক্ত মুহিত উদ্দিন চৌধুরী (৩৫), রাবেয়া খানম (৪০), আশিক উদ্দিন চৌধুরী (৪৫), আসমা আক্তার সাথী (২৭)সহ আরও অজ্ঞাত ৫-৬ জন দীর্ঘদিন ধরে জাল দলিলের মাধ্যমে ওই জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছেন। তারা ইতোমধ্যে চলাচলের রাস্তা, পুকুর ও আশপাশের জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করেছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে, গত ২৭ মার্চ ২০২৬ বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধভাবে দেশীয় অস্ত্র (দা, লোহার রড, হাতুড়ি, লাঠিসোটা) নিয়ে জমিতে প্রবেশ করে জোরপূর্বক গভীর নলকূপ স্থাপনের কাজ শুরু করে। এ সময় বাধা দিলে তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে মারধর, হত্যা এবং মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকি দেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, তাঁর চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে, তবে অভিযুক্তরা কাজ চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি পুনরায় হামলার হুমকি দেয়। এতে এলাকায় দাঙ্গা-হাঙ্গামার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় পূর্বে দায়ের করা চকরিয়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-এ সি.আর মামলা (নং-৯০৩/২০২৫) চলমান থাকলেও দীর্ঘদিন তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী। তাঁর অভিযোগ, তদন্ত কর্মকর্তাদের গাফিলতির কারণে অভিযুক্তরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
পরবর্তীতে তিনি চকরিয়া থানা-এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে নতুন করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে ঘটনার ভিডিও, ছবি এবং জাল দলিল সংক্রান্ত তথ্যও জমা দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী আরও অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জকে অবহিত করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকি অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্তদের নলকূপ স্থাপনের কাজ সম্পন্ন করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
তবে পরে থানার পক্ষ থেকে নতুন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযুক্তরা বর্তমানে পলাতক রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং অভিযোগের সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় ভূমি দখল ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে বলে তারা মনে করছেন।