বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৪ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সদর উপজেলা

শিশু উর্মি হত্যার ঘটনায় মামলা রুজু: আটক-১

খুরুশকুলে নিখোঁজের ৫ দিন পর ৯ বছরের শিশু উর্মি আক্তারের হাত-পা বিহীন অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। খুরুশকুল কদমতলী এলাকার নুরুল ইসলামের বাড়ীর পিছনে পাহাড়ী জঙ্গলের ভিতর থেকে অর্ধগলিত লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ। উক্ত ঘটনায় নিহতের মা রাশেদা আক্তার বাদী হয়ে সদর মডেল থানায় ৩ জনকে এজাহার নামীয় আসামী ও ৪/৫ জন অজ্ঞাতনামা আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। যার মামলা নং-২০, জিআর নং- ৩০৬/২৬ইং।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, খুরুশকুল কদমতলী এলাকার লাল মিয়ার ছেলে জুনাইদ, মোহাম্মদ আলমের ছেলে নুরুল ইসলাম, ফরিদের ছেলে জামশেদ বাদীর ১০ বছরের মেয়ে উর্মি আক্তারকে রাস্তাঘাটে চলাফেরা করার সময় কু-প্রস্তাব দিত। বাদী বিষয়টি জানার পর তাদেরকে বাধা নিষেধ করলে আসামীরা উল্টা বাদীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন সহ বিভিন্ন ধরনের হুমকী দেয়। গত ২ মে সকালে বাদীর মেয়ে উর্মি আক্তার ঘর থেকে বের হয়ে জুনাইদের বাড়ীতে ফুল তুলতে যায়। ফুল তুলে ফিরে না আসায় খোঁজাখুঁজি শুরু করে তারা। নিখোঁজ শিশু উর্মি আক্তারকে খুঁজতে আসামীদের বাড়ীতে গেলে তারা বাদীর পরিবারের লোকজনের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে ও হুমকী দেয়। তখন বাদী নিরুপায় হয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরী করেন। একপর্যায়ে ৭ মে ১১.০০ ঘটিকার সময় আসামী নুরুল ইসলামের বাড়ীর পিছনে শিশু উর্মি আক্তারের হাত-পা ও মাথায় চুল বিহীন লাশ দেখতে পান। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করেন। বাদীর মেয়ে উর্মি আক্তারকে আসামী জুনাইদ, নুরুল ইসলাম, জামশেদ ও অজ্ঞাতনামা আসামীরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে বলে এজাহার উল্লেখ করেন। উক্ত ঘটনায় আসামী নুরুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই আসামী জুনাইদ ও জামশেদ পলাতক রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, আসামী নুরুল ইসলাম একজন পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী। সে দীর্ঘদিন ধরে ঘরের পিছনে পাহাড়ের উপর একটি টিনের ঘর করে ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রি করে আসছে। ঐ ঘরে সারা রাত চলে মাদক সেবন। নুরুল ইসলামের বাড়ীতে খুরুশকুলের চিহ্নিত সন্ত্রাসী গ্রুপের আসা-যাওয়া থাকার কারণে প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি স্থানীয়রা। অপর দিকে আসামী জুনাইদ ও জামশেদ ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তারা একসাথে আসামী নুরুল ইসলামের ঘরে বসে ইয়াবা সেবন করত। আসামীরা মাদক সেবনের পর তাদের যৌন কামনা চরিতার্থ শেষে শিশু উর্মি আক্তারকে হত্যা করত: লাশ পাহাড়ের নিচে জঙ্গলের ভিতরে ফেলে রেখেছে বলে মনে করেন স্থানীয়রা।

পুলিশ সূত্র জানায়, শিশু উর্মি আক্তার হত্যা মামলাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। এজাহার নামীয় আসামী নুরুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পলাতক আসামী জুনাইদ ও জামশেদ সহ অজ্ঞাতনামা আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

ক্যাটাগরি