ছুরিকাঘাতে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে দম্পতি, অভিযুক্ত হাসানকে ঘিরে জনমনে আতঙ্ক
কক্সবাজারের বাহারছড়ায় মধ্যরাতের রক্তাক্ত তাণ্ডব
কক্সবাজার শহরের বাহারছড়া পিটিআই এলাকায় মধ্যরাতে ঘটে গেছে ভয়াবহ রক্তাক্ত হামলার ঘটনা। শালিক রেস্তোরাঁ ও হোটেলের মালিক নাছির উদ্দিনের অপহরণকাণ্ড নিয়ে যখন পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছিল, ঠিক সেই সময়েই তার ছেলে হাসানের নেতৃত্বে সংঘটিত হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা মো. নুর ওরফে কালু নুর এবং তার স্ত্রী রোকসানা বেগম। বর্তমানে তারা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন।
স্থানীয় সূত্র, প্রত্যক্ষদর্শী ও পারিবারিক সদস্যদের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৪ মে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টার দিকে বাহারছড়া পিটিআই সংলগ্ন এলাকায় এ নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এলাকায় চলমান উত্তেজনার মধ্যেই তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে হাসান ও তার সহযোগীরা সংঘবদ্ধভাবে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মো. নুরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
অভিযোগ রয়েছে, হামলার একপর্যায়ে হাসান নিজ হাতে ধারালো ছুরি দিয়ে মো. নুরকে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকে। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লেও থামেনি হামলাকারীরা। স্বামীকে বাঁচাতে ছুটে আসেন স্ত্রী রোকসানা বেগম। কিন্তু তাকেও নির্মমভাবে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করা হয়। মুহূর্তেই পুরো এলাকা রক্তে ভেসে যায়। আহত দম্পতির আর্তচিৎকারে আশপাশের মানুষ ছুটে এলে হামলাকারীরা প্রকাশ্যে হুমকি দিতে দিতে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হামলাকারীরা এতটাই বেপরোয়া ছিল যে, কেউ এগিয়ে আসার সাহস পাচ্ছিল না। অনেকেই আতঙ্কে ঘরের দরজা বন্ধ করে রাখেন। পরে এলাকাবাসী গুরুতর আহত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে চিকিৎসকরা জরুরি ভিত্তিতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, কালু নুরের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন এবং যেকোনো সময় অপ্রীতিকর খবর আসতে পারে।
ঘটনার পর পুরো বাহারছড়া এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবী, শালিক রেস্তোরাঁর মালিক নাছির উদ্দিন ও তার ছেলেকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, একটি প্রভাবশালী চক্রের ছত্রছায়ায় থাকায় তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না।
একাধিক বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, “আজ কালু নুর-রোকসানার ওপর হামলা হয়েছে, কাল কার ঘরে এমন ঘটনা ঘটবে কেউ জানে না। এলাকায় এখন সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।”
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকে এই হামলাকে ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাসী তাণ্ডব’ আখ্যা দিয়ে অভিযুক্ত হাসান ও তার সহযোগীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বাহারছড়ায় একটি ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী বলয় গড়ে উঠেছে, যা এখন সাধারণ মানুষের জন্য আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা অবিলম্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান, হামলাকারীদের গ্রেপ্তার এবং এলাকায় স্থায়ী শান্তিশৃঙ্খলা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।